চোখের সামান্য অস্বাভাবিকতাকে আমরা প্রায়ই গুরুত্ব দেই না। ক্লান্তি, ঘুমের অভাব বা দীর্ঘক্ষণ মোবাইল-কম্পিউটার ব্যবহারের প্রভাব বলে মনে করি। কিন্তু চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, চোখের কিছু পরিবর্তন থাইরয়েডজনিত রোগের প্রাথমিক সতর্কসংকেত হতে পারে। বিশেষ করে গ্রেভস ডিজিজ নামক অটোইমিউন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চোখের সমস্যা বেশি দেখা যায়। এই অবস্থাকে থাইরয়েড আই ডিজিজ (টিইডি) বলা হয়।
থাইরয়েড আই ডিজিজের লক্ষণ
থাইরয়েডে আক্রান্ত অনেক রোগীর চোখেও প্রভাব পড়ে এবং অনেক ক্ষেত্রে চোখের উপসর্গই প্রথম লক্ষণ হিসেবে প্রকাশ পায়। চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মতে, শুরুতে চোখের চারপাশে স্থায়ী ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। বিশ্রামের পরও যদি ফোলাভাব না কমে, তাহলে তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। এছাড়া চোখে জ্বালাপোড়া, শুষ্ক অনুভূতি বা চোখের ভেতরে চাপ লাগার মতো সমস্যাও হতে পারে।
রোগের অগ্রগতিতে জটিলতা
রোগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু মানুষের চোখ স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি উঁচু বা সামনের দিকে বেরিয়ে আসতে পারে। এক বস্তু দুটি দেখা, আলোতে অস্বস্তি, ঘুমের সময় চোখ পুরোপুরি বন্ধ করতে না পারার মতো জটিলতাও তৈরি হতে পারে। গুরুতর পরিস্থিতিতে দৃষ্টি স্নায়ুর ওপর চাপ পড়ে দৃষ্টির ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
প্রাথমিক চিকিৎসার গুরুত্ব
বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই রোগ ধীরে ধীরে বিকাশ লাভ করে, তাই প্রাথমিক লক্ষণগুলোকে সাধারণ চোখের ক্লান্তি বা স্ক্রিন ব্যবহারের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বলে অনেকে অবহেলা করেন। ফলে চিকিৎসা বিলম্বিত হয় এবং রোগ জটিল আকার নেয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ, চোখে দীর্ঘস্থায়ী ফোলা, অতিরিক্ত শুষ্কতা, দৃষ্টি পরিবর্তন বা অন্য কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। থাইরয়েড রোগীদের নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা করানো জরুরি, কারণ চোখের পরিবর্তনই শরীরের থাইরয়েড সমস্যার প্রথম ইঙ্গিত বহন করে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস



