শিশুদের স্কুল ভীতি মোকাবিলায় অভিভাবকদের জন্য বিশেষজ্ঞের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
প্রথম আলো ট্রাস্টের আয়োজনে সম্প্রতি একটি অনলাইন মাদকবিরোধী পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি তারিখে আয়োজিত এই সভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের মনোবিদ ডা. রাহেনুল ইসলাম। তিনি ‘শিশুদের স্কুল ভীতি: অভিভাবকের করণীয়’ শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর বিস্তারিত আলোচনা করেন।
শিশু-অভিভাবক সম্পর্কের সুস্থতা যাচাইয়ের উপায়
ডা. রাহেনুল ইসলাম তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, শিশুর সাথে বাবা-মায়ের সম্পর্ক কতটা স্বাভাবিক ও সুস্থ, তা বোঝার একটি কার্যকরী উপায় হলো দীর্ঘ সময় পর তাদের পুনর্মিলনের মুহূর্তটি পর্যবেক্ষণ করা। তিনি ব্যাখ্যা করেন, যদি শিশু বাইরে থেকে ফিরে এসে কিছুক্ষণ আদর-স্নেহ পাওয়ার পর স্বাভাবিকভাবে নিজের খেলায় বা কাজে ফিরে যায়, তবে এটি একটি ইতিবাচক সংকেত।
এক্ষেত্রে বুঝতে হবে যে শিশু ও অভিভাবকের মধ্যকার বন্ধনটি সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ। কিন্তু বিপরীতভাবে, যদি শিশু অতিমাত্রায় আঁকড়ে ধরে থাকে অথবা সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে চলার প্রবণতা দেখায়, তবে তা উদ্বেগের কারণ হতে পারে এবং মনস্তাত্ত্বিক সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে।
‘অদৃশ্য সুতোর টান’ ও শিশুর মানসিক বিকাশের ধারা
মনোবিদ ডা. ইসলাম চার থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে একটি ‘নির্দ্বিধামূলক দূরত্ব’ এর ধারণা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শিশু যখন খেলার মাঠে দৌড়ায় বা কোনো কাজ করে, তখন সে নির্দিষ্ট একটি দূরত্ব বজায় রেখে বারবার পেছনে ফিরে তাকায় এই ভেবে যে তার ভরসার মানুষটি সেখানে আছেন কিনা।
বয়সের সাথে সাথে এই মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব স্বাভাবিকভাবে বাড়ার কথা। উদাহরণস্বরূপ, যদি একটি শিশু মাত্র ১০ ফুট দূরত্বে যেতেও ভয় পায় বা অনিচ্ছা প্রকাশ করে, তবে এটি ইঙ্গিত দিতে পারে যে তার মানসিক বিকাশে কোনো বাধা বা সমস্যা রয়েছে। এই অবস্থায় অভিভাবকদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
কখন পেশাদার বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া উচিত?
স্কুল জীবনের শুরুর কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ শিশুর অস্বস্তি বা ভীতির প্রকাশ স্বাভাবিক বলে বিবেচনা করা হয়। তবে ডা. রাহেনুল ইসলাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, “যদি একটানা ছয় মাস পার হওয়ার পরও অভিভাবককে নিয়মিতভাবে ক্লাসরুমের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, তবে এটি একটি সতর্কসংকেত।”
এমন পরিস্থিতি নির্দেশ করে যে শিশু এবং সম্ভবত অভিভাবক—উভয়ের মনেই গভীর কোনো সমস্যা বা ভীতি কাজ করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যায় দ্রুত বিশেষজ্ঞ মনোবিদ বা কাউন্সেলরের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
এই অনলাইন সভাটি প্রথম আলো ট্রাস্টের মাদকবিরোধী আন্দোলনের একটি অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে, যা শিশু ও অভিভাবকদের জন্য মূল্যবান মনস্তাত্ত্বিক নির্দেশনা প্রদান করে।



