সিলেটের ‘বেওয়ারিশ’ ২৫০ শয্যা হাসপাতাল স্বীকৃতি পেল, চালুর পথে
সিলেটের ‘বেওয়ারিশ’ হাসপাতাল স্বীকৃতি পেল চালুর পথে

সিলেটের বহুল আলোচিত ২৫০ শয্যার ‘বেওয়ারিশ’ জেলা হাসপাতাল অবশেষে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেয়েছে। এর মাধ্যমে চালুর পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল এই গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য প্রকল্পটি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে কর্তৃপক্ষের জটিলতা কাটিয়ে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে হাসপাতালটি।

মন্ত্রীর ঘোষণা

বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে হাসপাতালটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন মেলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি তার স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত হবে এবং সাধারণ মানুষ আধুনিক চিকিৎসাসেবার অধিকতর সুযোগ পাবে। গত সোমবারের স্ট্যাটাসে তিনি সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের এ উদ্যোগের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।

নির্মাণের ইতিহাস

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ৬ দশমিক ৯৮ একর জমির ওপর শতবর্ষের পুরনো আবু সিনা ছাত্রাবাস ভেঙে এই হাসপাতালের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। পরবর্তীতে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে কাজ শুরু হয়ে ২০২৩ সালে আনুমানিক ৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এর আটতলা ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হয়। তবে ভবন নির্মাণ শেষ হলেও এটি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নাকি সিভিল সার্জন অফিস পরিচালনা করবে এ নিয়ে রশি টানাটানি শুরু হয়। এ নিয়ে গত ৩ বছর ধরে কোনো কর্তৃপক্ষ ছাড়া ‘বেওয়ারিশ’ ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল এই আধুনিক স্থাপনাটি। কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান এটি পরিচালনায় আগ্রহী না হওয়ায় জনবল নিয়োগ ও লজিস্টিক সাপোর্ট নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উদ্যোগ ও অগ্রগতি

পরবর্তীতে সিলেটে যোগদানের পরপরই জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম হাসপাতালটি সচল করতে ঐকান্তিক প্রচেষ্টা চালান। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এটি চালুর বিষয়ে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। গত ২০ এপ্রিল তিনি হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেন।

এছাড়া গত ৩১ মে সিলেটের এক অনুষ্ঠানে হাসপাতালটি শিগগিরই পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর ঘোষণা দেন মন্ত্রী। পাশাপাশি সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আরও ১ হাজার ২০০ শয্যার একটি অত্যাধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান।

এর আগে গত ২ মে সিলেট সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও দ্রুততম সময়ের মধ্যে হাসপাতালটি চালুর আশ্বাস দিয়েছিলেন।

ভবনের বর্ণনা

সিলেট গণপূর্ত বিভাগের বিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু জাফর জানান, হাসপাতালের নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ। বর্তমানে পরিচ্ছন্নতাসহ আনুষঙ্গিক সামান্য কিছু কাজ বাকি রয়েছে; যা মাসখানেকের ভেতরে শেষ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হ্যান্ডওভার করা সম্ভব। অত্যাধুনিক এ ভবনের বেজমেন্টে কার পার্কিং, প্রথম তলায় টিকিট কাউন্টার ও ওয়েটিং রুম, দ্বিতীয় তলায় আউটডোর ও কনসালট্যান্ট চেম্বার, তৃতীয় তলায় ডায়াগনস্টিক, চতুর্থ তলায় কার্ডিয়ার্ক ও জেনারেল ওটিসহ ১৯টি আইসিইউ ও ৯টি সিসিইউ বেড, পঞ্চম তলায় গাইনি, অর্থোপেডিক্স ও ইএনটি বিভাগ এবং ষষ্ঠ থেকে অষ্টম তলায় ৪০টি কেবিন ও সাধারণ ওয়ার্ডের ব্যবস্থা রয়েছে।

চূড়ান্ত অনুমোদন

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ও সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিইউকে) প্রশাসক রেজাউল হাসান কয়েস লোদী জানান, বিগত সরকারের সুনির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ ছাড়া করা এই অপরিকল্পিত বিল্ডিংটি অবশেষে বাণিজ্যমন্ত্রীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ‘সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়’-এর তত্ত্বাবধানে চালুর অনুমোদন পেয়েছে। শিগগিরই জনবল নিয়োগ ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ের মাধ্যমে এটি দ্রুত চালু করে সিলেটের স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করা হবে।