রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী কালাই রুটি খেয়ে প্রশংসা করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। কালাই রুটি খাওয়ার পর নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘দারুণ মজা।’ মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকালে নগরীর উপশহর নিউ মার্কেট এলাকার ঐতিহ্যবাহী ‘রুমন কালাই হাউজ’ পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এই খাবার খান।
রুটি তৈরির প্রক্রিয়া ও সেলফি
কালাই রুটি কীভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে, তা দোকানে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে অত্যন্ত আগ্রহের সঙ্গে প্রত্যক্ষ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। এ সময় তিনি নিজের মোবাইল ফোনে রুটি বানানোর ছবি তোলেন এবং সেলফি নেন। এরপর তিনি ঘুরে ঘুরে বেগুন ভর্তা তৈরি, রাজহাঁসের মাংস রান্নাসহ বিভিন্ন খাবার প্রস্তুতের প্রক্রিয়াও দেখেন। খাবারের প্রস্তুতি দেখা শেষে রাষ্ট্রদূত তার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে কালাই রুটি ও রাজহাঁসের মাংস খেতে বসেন। খাওয়া-দাওয়া শেষে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, কালাইয়ের রুটি, হাঁসের মাংস ও বেগুন ভর্তার স্বাদ এককথায় দারুণ ছিল।
উৎসুক জনতার ভিড়
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কালাই হাউজে আসার খবর পেয়ে ঐতিহ্যবাহী এই খাবার খাওয়ার দৃশ্য একনজর দেখতে সেখানে স্থানীয় প্রচুর উৎসুক জনতা ভিড় জমান। কড়া পুলিশের নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রদূতের সফরসঙ্গীরাও এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
রাসিক প্রশাসকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন রাষ্ট্রদূত। বিকালে নগর ভবনে রাসিক প্রশাসকের দফতরে সৌহার্দ্যপূণ পরিবেশে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় রাজশাহী মহানগরীকে সবুজ, পরিবেশবান্ধব, স্মার্ট, স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ ও জলবায়ু-সহনশীল আধুনিক নগরী বিনির্মাণে আলোচনা করা হয়।
সাক্ষাতের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে ফুলেল শুভেচ্ছায় স্বাগত জানান রাসিক প্রশাসক। পরবর্তীতে মতবিনিময় শেষে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের হাতে শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন। সাক্ষাৎকালে রাসিকের পরিদর্শন বইয়ে মন্তব্য লিখেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত। সৌজন্য সাক্ষাৎকালে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সফরসঙ্গী ছিলেন পলিটিক্যাল কাউন্সেলর এরিক গিলান এবং পলিটিক্যাল অফিসার চার্লস বেসনার্ড। আরও উপস্থিত ছিলেন রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম, সচিব সোহেল রানা, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আহমদ আল মঈন পরাগ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এফএএম আঞ্জুমান আরা বেগম, বাজেট কাম হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম খান প্রমুখ।



