আটলান্টিক মহাসাগরে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক একটি প্রমোদতরিতে হান্টাভাইরাসে তিনজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। আরও কয়েকজন অসুস্থ হওয়ায় ভাইরাসটির সংক্রমণ ও ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। একই সঙ্গে ভাইরাসটি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বক্তব্য
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ মারিয়া ভ্যন ক্যারকোহভ জানিয়েছেন, এই ভাইরাসটি ঠিক কোভিড-১৯ এর মতো কিছু না, আবার ইনফ্লুয়েঞ্জাও না। তবে এটি থেকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, হান্টাভাইরাসে সংক্রমিত জাহাজ এমভি হন্ডিয়াসের সবাইকে মাস্ক পরতে বলা হয়েছে। যেসব ব্যক্তি সন্দেহভাজন রোগীদের সংস্পর্শে আসছেন বা তাদের সেবা দিচ্ছেন, তাদের উচিত আরও বেশি সুরক্ষামূলক পোশাক-আশাক ও সরঞ্জাম ব্যবহার করা।
সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা
হান্টাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা রোগীদের সংস্পর্শে এসেছে, তারা সংক্রমিত হয়েছে কি হয়নি, তা শনাক্ত করার কাজ চলছে। তবে হান্টাভাইরাস সাধারণত খুব কাছাকাছি সংস্পর্শে এলে ছড়ায়। এটি না কোভিড, না ইনফ্লুয়েঞ্জা, এর ছড়ানোর ধরন একেবারেই আলাদা।
কোভিডের সঙ্গে তুলনা নয়
হান্টাভাইরাসের সঙ্গে কোভিড-১৯ মহামারীর শুরুর সময়ের পার্থক্য নিয়ে তিনি বলেন, এখনকার পরিস্থিতি ছয় বছর আগেকার পরিস্থিতির মতো নয়। আমি খুব পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, এটি নতুন কোনো কোভিড মহামারির শুরু নয়। এটি এমন একটি প্রাদুর্ভাব, যা কেবল একটি জাহাজে দেখা যাচ্ছে।
বিশ্বব্যাপী সংক্রমণের তথ্য
বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর আনুমানিক ১০ হাজার থেকে ১ লাখ মানুষ হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত হন, যার মধ্যে এশিয়া ও ইউরোপে সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি। হান্টাভাইরাস হচ্ছে একগুচ্ছ ভাইরাসের সমষ্টি, যা সাধারণত ইঁদুর বা এ জাতীয় ক্ষুদ্র প্রাণীর মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত ইঁদুরের লালা, মল-মূত্র বা এদের বাস স্থানের ধুলিকণার সংস্পর্শে মানুষ এলে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা দেহে গুরুতর রোগ তৈরি করতে পারে।



