আট মাস বয়সী কন্যা তাবাসসুমের হাম থেকে সেরে ওঠায় কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন মা রুবিনা আক্তার। পাবনায় বাড়ি ফিরছে শিশুটি, কিন্তু চিকিৎসার জন্য করা ৩০ হাজার টাকার ঋণ তার ভাবনায় ছায়া ফেলেছে। রুবিনা জানান, স্বামী কাঠমিস্ত্রি। মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় আসায় স্বামী বাড়িতে অন্য দুই সন্তান নিয়ে কাজ করতে পারছেন না।
চিকিৎসার খরচে নাজেহাল পরিবার
রুবিনার মেয়ে তাবাসসুম এক মাস ধরে জ্বরে ভুগছিল। ১০ দিন আগে অবস্থা গুরুতর হলে তাকে প্রথমে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চার দিন চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়। বাড়ি ফেরার এক দিন পরই শিশুটির ১০৪ ডিগ্রি জ্বর ও অচেতন অবস্থা দেখা দেয়। পরে রুবিনা মেয়েকে নিয়ে একা ঢাকায় আসেন। অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া না থাকায় বাসে আসেন, সঙ্গে ছিল মাত্র ৮৫০ টাকা। স্বামী পরে বিকাশে টাকা পাঠান।
ঢাকায় রাত ১২টার পর ধানমন্ডির ডিএনসিসি হাসপাতালে ভর্তি হয় শিশুটি। চিকিৎসকরা জানান, শিশুটির শরীর খুব দুর্বল, পুষ্টিকর খাবার প্রয়োজন। রুবিনা বলেন, 'আমরা গরিব মানুষ, নিয়মিত খাবার জোগাড় করতে পারি না, পুষ্টিকর খাবার কোথায় পাব?'
নীলফামারির আরও একটি পরিবারের কাহিনী
নীলফামারির ডিমলা উপজেলার রেজাউল ও রাবেয়া মিরপুরে ভাড়া রিকশা চালিয়ে ও গার্মেন্টসে কাজ করে সংসার চালান। ৭ মাসের মেয়ে রিফার জ্বর ও কাশি শুরু হয় ২ মে। প্রথমে এমআর খান হাসপাতালে অ্যালার্জি বলে ওষুধ দেওয়া হয়। ১০ মে র্যাশ ও জ্বর বাড়লে শিশুটি খাওয়া বন্ধ করে দেয়। পরে শ্যামলী শিশু হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও শেষে ডিএনসিসি হাসপাতালে ভর্তি হয়। আইসিইউতে ক্যানুলা দিতে বেগ পেতে হয় চিকিৎসকদের। ১৫ দিনে চিকিৎসায় খরচ হয়েছে ২৫ হাজার টাকা, সবই ধার।
রাবেয়া বলেন, 'আমরা গরিব মানুষ, নিজের সঞ্চয় নেই। স্বামী ১৫ দিন কাজ করতে পারেনি, আমিও কাজে যেতে পারছি না। টাকা ধার করে চিকিৎসা চালাচ্ছি।' তাদের আট বছরের মেয়ে আত্মীয়ের কাছে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা
ঢাকা শিশু হাসপাতাল, ডিএনসিসি হাসপাতাল ও সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে গত কয়েকদিনে দেখা গেছে, স্থানীয় হাসপাতালগুলো জটিলতা সামলাতে না পারায় পরিবারগুলো ঢাকায় ছুটছে। দুর্বল টিকাদান কভারেজ ও সচেতনতার অভাবে হামের প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি আঘাত হেনেছে দরিদ্র ও বস্তি এলাকায়। অপুষ্টি ও ভিড়পূর্ণ পরিবেশ সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন বলেন, 'অপুষ্টি এবং ভিড়পূর্ণ পরিবেশ সংক্রমণের অনুকূল অবস্থা তৈরি করে। অনেক বাবা-মা আর্থিক ভয়ে হাসপাতালে যেতে দেরি করেন, ততদিনে রোগ জটিল হয়ে যায় এবং চিকিৎসা খরচ বেড়ে যায়।' তিনি বলেন, শুধু চিকিৎসা নয়, দরিদ্র সম্প্রদায়ের জন্য কাঠামোগত সহায়তা প্রয়োজন, যেমন বস্তি এলাকায় কমিউনিটি ভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা ও সহায়তা কেন্দ্র।



