ডিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যু নিয়ে চলমান বিচারিক প্রক্রিয়ায় এক চিকিৎসক দাবি করেছেন, একটি সাধারণ ওষুধ (ডাইউরেটিক) ম্যারাডোনাকে মাত্র ‘৪৮ ঘণ্টার মধ্যে’ সুস্থ করে তুলতে পারতো। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সান ইসিদ্রোর আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় এই মন্তব্য করেন ডা. মারিও শিটার।
চিকিৎসকের বক্তব্য
ডা. শিটার বলেন, ‘প্রায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই তার শারীরিক অবস্থার দৃশ্যমান উন্নতি সম্ভব ছিল।’ ২০০০ সালের শুরুতে ম্যারাডোনার চিকিৎসায় নিয়োজিত ছিলেন তিনি। ২০২০ সালের ২৫ অক্টোবর মারা যান এই আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তি। ২০২০ সালে ম্যারাডোনার ময়নাতদন্তেও উপস্থিত ছিলেন ডা. শিটার।
এই ডাক্তার আরও বলেন, ‘প্রতিদিন আইসিইউতে আমি হার্ট ফেইলিউরের এমন অনেক রোগী দেখি। আমরা তাদের শরীরে জমে থাকা তরল কমাতে ডাইউরেটিক জাতীয় ওষুধ দিই। এতে মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই অনেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পারেন।’
অন্যান্য বিশেষজ্ঞের সাক্ষ্য
মারিও শিটারের আগে আরও বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মৃত্যুর সময় ম্যারাডোনার শরীরে বেশ কিছু অঙ্গে অতিরিক্ত তরল জমে ছিল। গত বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্তে অংশ নেওয়া অন্য চিকিৎসক কার্লোস ক্যাসিনেলি বলেন, ‘ম্যারাডোনার শরীরের সব জায়গায় পানি জমে গিয়েছিল।’
ক্যাসিনেলির মতে, এ তরল জমতে অন্তত ‘এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিন’ সময় লাগে। অর্থাৎ, ম্যারাডোনার চিকিৎসকেরা চাইলেই সেই সময় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি লক্ষ করতে পারতেন।
বিচারপ্রক্রিয়া ও সম্ভাব্য শাস্তি
ম্যারাডোনার চিকিৎসায় অবহেলার দায়ে বর্তমানে সাতজন স্বাস্থ্যকর্মী বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের ২৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। এই বিচারপ্রক্রিয়া আগামী জুলাই মাস পর্যন্ত চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



