বন্দরনগরী চট্টগ্রামে মহানগর এবি পার্টির সংগঠক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন এবি পার্টি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে দূরত্ব সংঘাতে রূপ নিলে আওয়ামী লীগ লাভবান হবে।
সমাবেশের বিবরণ
শুক্রবার (১৫ মে) চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট গোলাম ফারুক। সঞ্চালনা করেন মহানগর সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ আবুল কাশেম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান।
ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ
মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ১৯৯১ সালে জামায়াতের সমর্থন নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছিল। পরবর্তীতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বৈরী সম্পর্ক তৈরি হয় এবং একাধিক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। পরে ২০০১ সালে বিএনপি ও জামায়াত আবারও জোটবদ্ধ হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতার অংশীদারিত্ব ও রাজনৈতিক আন্দোলনে একে অপরের সহযোগী হিসেবে ভূমিকা পালন করে।
বর্তমান পরিস্থিতি
তিনি আরও বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উভয় দল আবারও মুখোমুখি অবস্থানে চলে যাচ্ছে। এই দূরত্ব যদি সংঘাতে রূপ নেয়, তবে তা স্বাভাবিকভাবেই পতিত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে লাভবান করবে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। পাশাপাশি ক্ষমতাসীন বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে সংঘাতমুখী পরিস্থিতি উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই প্রবণতা এখনই নিয়ন্ত্রণ না করা হলে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশকে দলীয় বাহিনী হিসেবে ব্যবহারের অতীত প্র্যাকটিস পুনরায় ফিরে আসার শঙ্কা দেখা দিচ্ছে। একই সঙ্গে পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠন, স্বাধীন বিচার বিভাগ ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে সরকারের পশ্চাদপসরণ ভবিষ্যতে আরও জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
দলীয় নির্দেশনা
সমাবেশে মঞ্জু থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে এবি পার্টিকে শক্তিশালী ও বিস্তৃত করার জন্য নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা দেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- এবি পার্টির চট্টগ্রাম মহানগর যুগ্ম সদস্য সচিব শহিদুল ইসলাম বাবুল, অর্থ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার যায়েদ হাসান চৌধুরী, এবি যুব পার্টি চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক আব্দুর রহমান মনির, কেন্দ্রীয় নেতা আতাউর রহমান নূর, তৌহিদ হোসেন রাকিল, যুব পার্টির সদস্য সচিব মুহাম্মদ জাবেদ, শ্রমিক নেতা মুক্তিযোদ্ধা হারুনুর রশিদ চৌধুরী, বাকলিয়া থানা সহ-সমন্বয়ক মোহাম্মদ আজগর, সঞ্জয় চৌধুরী বিশু, সুমন চৌধুরী, আরশাদ হোসাইন, নুরুল ইসলাম, যুব নেতা নাজমুল হোসেন, মুহাম্মদ মুরাদ, কানিজ ফাতেমা, বিধান কান্তি, ছাত্র নেতা অর্ক, রাবিয়া সুলতানা সহ এবি পার্টি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা।



