এইচএলএইচে আক্রান্ত হয়ে সাবেক আফগান ক্রিকেটার শাপুর জাদরানের মৃত্যু
এইচএলএইচে সাবেক আফগান ক্রিকেটার শাপুর জাদরানের মৃত্যু

শাপুর জাদরানের মৃত্যু: আফগান ক্রিকেটের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন

আফগানিস্তানের সাবেক ফাস্ট বোলার শাপুর জাদরান মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভারতের নয়াদিল্লির একটি হাসপাতালে মাত্র ৩৮ বছর বয়সে মারা গেছেন। তিনি অত্যন্ত বিরল এবং প্রাণঘাতী রোগ হিমোফ্যাগোসাইটিক লিম্ফোহিস্টিওসাইটোসিসে (এইচএলএইচ) আক্রান্ত ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে এই জটিল ইমিউন ডিজিজের সঙ্গে লড়াই করছিলেন তিনি। তার মৃত্যুতে ক্রীড়াপ্রেমী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে এইচএলএইচ নিয়ে উদ্বেগ ও সচেতনতা তৈরি হয়েছে।

এইচএলএইচ কী এবং কেন হয়?

হিমোফ্যাগোসাইটিক লিম্ফোহিস্টিওসাইটোসিস (এইচএলএইচ) একটি অত্যন্ত বিরল ও প্রাণঘাতী ইমিউন ডিসঅর্ডার। চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, এই রোগে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং জীবাণু বা সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার বদলে ভুলবশত শরীরের নিজস্ব সুস্থ টিস্যু, কোষ ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে আক্রমণ করতে শুরু করে।

এইচএলএইচ সাধারণত দুই ধরনের হতে পারে: প্রাইমারি এইচএলএইচ, যা বংশগত বা জন্মগত ত্রুটির কারণে হয়; এবং সেকেন্ডারি এইচএলএইচ, যা বয়সের সঙ্গে সঙ্গে গুরুতর সংক্রমণ, অটোইমিউন ডিজিজ বা ক্যানসারের কারণে হতে পারে। এই রোগে শরীর অতিরিক্ত পরিমাণে প্রদাহ সৃষ্টিকারী কোষ বা কেমিক্যাল তৈরি করে, যার ফলে লিভার, প্লিহা, অস্থিমজ্জা এবং মস্তিষ্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এইচএলএইচের লক্ষণ ও নির্ণয়

এইচএলএইচের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে ঘন ঘন জ্বর যা সহজে কমে না, লিভার ও লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়া, ত্বকে র্যাশ, রক্তে লোহিত ও শ্বেত কণিকার পরিমাণ কমে যাওয়া, অকারণে শরীরে কালশিটে পড়া বা রক্তপাত, এবং খিঁচুনি, বিভ্রান্তি বা মস্তিষ্কের স্নায়বিক সমস্যা। এই রোগ নির্ণয়ের জন্য বিশেষ রক্ত পরীক্ষা ও বোন ম্যারো পরীক্ষার প্রয়োজন হয়। সময়মতো চিকিৎসা না করালে ইমিউন সিস্টেমের এই অতিসক্রিয়তা অঙ্গ বিকল করে মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শাপুর জাদরানের ক্রিকেট ক্যারিয়ার

শাপুর জাদরান ছিলেন আফগানিস্তানের বাঁহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম বোলার, যিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আফগানিস্তানের উত্থানের অন্যতম কারিগর। তিনি ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে দলের প্রথম জয়ে স্মরণীয় অবদান রেখেছিলেন। তার মৃত্যুতে আফগান ক্রিকেটে এক শূন্যতা তৈরি হয়েছে।