ক্যানসার মোকাবিলায় স্বাস্থ্য শিক্ষা ও জনসচেতনতার ওপর জোর
ক্যানসারের মতো জটিল রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও জনসচেতনতার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) নারায়ণগঞ্জ পুলিশ লাইনস মাল্টিপারপাস হলে ‘আমরা নারী’ ও ‘সিওক হেলথকেয়ার’ সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত একটি ক্যানসার সচেতনতা সেমিনারে এই বিষয়ে আলোচনা করা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সময়মতো রোগ শনাক্তকরণের গুরুত্ব
সেমিনারের প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চীনের ক্যানসার বিশেষজ্ঞ লিন জিং। তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ‘‘আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসা পদ্ধতি ক্যানসার মোকাবিলায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। তবে এই রোগের বিরুদ্ধে সফল হতে গেলে সময়মতো রোগ শনাক্ত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’’ তার মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় চিকিৎসার সাফল্যের হার বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
গণসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান
আয়োজক সংগঠন ‘আমরা নারী’ ও ‘সিওক হেলথকেয়ার’-এর প্রতিষ্ঠাতা এম এম জাহিদুর রহমান (বিপ্লব) সেমিনারে বলেন, ‘‘ক্যানসার সম্পর্কে গণসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিহার্য। এছাড়াও সমাজের বিভিন্ন স্তরে সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই কেবল এই রোগের বিরুদ্ধে কার্যকর লড়াই চালানো সম্ভব।’’ তার বক্তব্যে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও অংশগ্রহণমূলক কর্মকাণ্ডের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।
ক্যানসার প্রতিরোধের উপায়
বক্তারা সেমিনারে ক্যানসারের ঝুঁকি কমানোর জন্য বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন। তাদের মতে, নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করা উচিত:
- ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
- নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও স্ক্রিনিং কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা।
- স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা।
এই পদক্ষেপগুলো ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সেমিনারের আয়োজকরা ভবিষ্যতেও এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তারা সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও বয়সের মানুষের মধ্যে ক্যানসার সম্পর্কে জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে নিয়মিত কর্মশালা ও আলোচনা সভার আয়োজন করতে চান। এই উদ্যোগের মাধ্যমে জনসাধারণের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।



