অনিয়মিত ঋতুস্রাব হতে পারে জরায়ুর ক্যানসারের সতর্ক সংকেত
প্রিন্ট: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম। লাইফস্টাইল ডেস্ক। ঋতুস্রাব বা পিরিয়ডের স্বাভাবিক নিয়মে সামান্য পরিবর্তন এলেই নারীরা চিন্তিত হয়ে পড়েন। অনেকেই ভাবেন, অতিরিক্ত স্ট্রেস, খাদ্যাভ্যাস বা জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণেই এমনটি হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে হরমোনঘটিত সমস্যা যেমন পিসিওএসকেও দায়ী করা হয়। কিন্তু যদি প্রতি মাসেই পিরিয়ড অনিয়মিত হতে থাকে, তবে এটি সত্যিই গুরুতর চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই অনিয়মিত ঋতুস্রাব জরায়ুর ক্যানসারের একটি সম্ভাব্য লক্ষণ হতে পারে।
জরায়ুর ক্যানসার কেন দ্রুত ধরা পড়ে না?
জরায়ুর ক্যানসার প্রাথমিক অবস্থায় সহজে শনাক্ত করা যায় না, কারণ নারীরা যখন উপসর্গ বুঝতে পারেন, তখন অনেকটাই দেরি হয়ে যায়। এন্ডোমেট্রিয়াল বা জরায়ুর ভেতরের স্তরে ক্যানসার হলে মাসিকের স্বাভাবিক নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। সার্ভাইকাল ক্যানসারের ক্ষেত্রে অনিয়মিত রক্তপাত, সহবাসে কষ্ট বা দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব হতে পারে। এছাড়াও, পিরিয়ড অনিয়মিত হওয়ার পাশাপাশি পেটফাঁপা, তলপেটে ব্যথা এবং সারাক্ষণ ক্লান্ত বোধ করা এই রোগের প্রধান লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
যদি পিরিয়ডের এই পরিবর্তন একটানা তিন মাসের বেশি স্থায়ী হয়, ওজন কমে যায় বা অ্যানিমিয়া দেখা দেয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। আল্ট্রাসাউন্ড, প্যাপ স্মিয়ারের মতো সাধারণ কিছু পরীক্ষার মাধ্যমে বড় কোনো বিপদ হওয়ার আগেই রোগ নির্ণয় করা সম্ভব। অনেক সময় নারীরা পিরিয়ড চলাকালীন ব্যথা বা অতিরিক্ত রক্তপাতকে স্বাভাবিক বলে মেনে নেন এবং লজ্জার কারণে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন না, যা রোগ শনাক্তে বিলম্ব ঘটায়।
বয়সের সীমা ও সচেতনতা
প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, ক্যানসার কেবল বয়স্ক নারীদেরই হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা এখন সতর্ক করেছেন, ৩০ বছর বা তার আশেপাশের বয়সের নারীদেরও এই ঝুঁকি থেকে মুক্ত বলে ধরে নেওয়া যায় না। তাই যেকোনো বয়সের নারীদের ঋতুস্রাবের অনিয়মিততা বা অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে সচেতন হওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানো ও নিয়মিত চেকআপের মাধ্যমে জরায়ুর ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগ প্রতিরোধ বা প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা সম্ভব।



