২১ কেজি ওজনের জরায়ুর টিউমার অস্ত্রোপচারে প্রাণ বাঁচল এক মহিলার
এক মহিলা দীর্ঘদিন ধরে জরায়ুতে ২১.৮ কেজি ওজনের একটি বিশাল টিউমার নিয়ে চলাফেরা করছিলেন, যা তার পেট ফুলে যাওয়া এবং অস্বাভাবিক রক্তপাতের কারণ হয়েছিল। পরীক্ষায় দেখা যায়, এটি ইউটেরাইন সারকোমা নামক এক ধরনের বিরল জরায়ুর ক্যানসার, যা শ্রোণিদেশ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল। দিল্লি এমসের চিকিৎসকরা মাত্র এক ঘণ্টার অস্ত্রোপচারে এই টিউমারটি সফলভাবে অপসারণ করেন, মহিলার জীবন রক্ষা করে।
টিউমারের লক্ষণ ও পরীক্ষা
মহিলার মধ্যে পেট ফুলে থাকা, অস্বাভাবিক খিদে এবং ঋতুচক্র ছাড়াও রক্তপাতের লক্ষণ দেখা দিয়েছিল। আলট্রাসোনোগ্রাফি পরীক্ষায় ধরা পড়ে, টিউমারটি পেট থেকে পুরো পেলভিক এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এবং এটি অন্ত্র ও কিডনির কার্যক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছিল। চিকিৎসক ড. এমডি রায় জানান, কিছু দিনের মধ্যে তার মাল্টি-অর্গান ফেলিয়ার হতে পারত, যা জীবনহানির কারণ হতো।
ইউটেরাইন সারকোমা কী?
ইউটেরাইন সারকোমা জরায়ুর পেশি ও কোষে ক্ষত সৃষ্টি করে, যার ফলে কোষের অস্বাভাবিক বিভাজন শুরু হয়। এটি প্রায়শই জরায়ুর ফাইব্রয়েড বা সিস্টের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়, কিন্তু এর প্রকৃতি ভিন্ন। এই ক্যানসার জরায়ুর সীমা ছাড়িয়ে পেলভিক এলাকা, ডিম্বাশয়, মূত্রথলি এবং মূত্রনালিতে ছড়িয়ে যেতে পারে, এমনকি লসিকা গ্রন্থির মাধ্যমে ফুসফুস, লিভার বা হাড়েও পৌঁছাতে পারে। লক্ষণগুলোর মধ্যে পেট ফুলে যাওয়া, অস্বাভাবিক ঋতুস্রাব এবং রজোনিবৃত্তির পরেও রক্তপাত উল্লেখযোগ্য, যা সাধারণত ৪০ থেকে ৬০ বছর বয়সী মহিলাদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, তবে কম বয়সেও হতে পারে।
চিকিৎসা পদ্ধতি ও অস্ত্রোপচার
মহিলার টিউমার অপসারণের জন্য চিকিৎসকরা এক্সপ্লোরেটরি ল্যাপারোটমি পদ্ধতি ব্যবহার করেন, যা তখন প্রয়োগ করা হয় যখন সিটি স্ক্যান বা আলট্রাসোনোগ্রাফিতে সবকিছু স্পষ্ট দেখা যায় না। এই পদ্ধতিতে পেটে ছিদ্র করে অস্ত্রোপচার করা হয়, যা শরীরের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামত করতে সহায়তা করে। টিউমারের আকার ও ওজন এতই বিশাল ছিল যে, প্রায় এক ঘণ্টার সতর্ক অস্ত্রোপচারের পরই এটি অপসারণ সম্ভব হয়েছিল। জরায়ুর ক্যানসার খুবই বিরল, মাত্র ২ শতাংশ ক্ষেত্রে এমন ক্যানসার দেখা যায়, যা এই ঘটনাকে আরও উল্লেখযোগ্য করে তোলে।
এই সফল অস্ত্রোপচার শুধু মহিলার জীবনই বাঁচায়নি, বরং ইউটেরাইন সারকোমার মতো বিরল ক্যানসারের সচেতনতা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন, অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, যাতে প্রাথমিক পর্যায়েই রোগ শনাক্ত করে কার্যকর চিকিৎসা সম্ভব হয়।



