ক্যান্সার চিকিৎসার মধ্যেই দীপিকা কাকরের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন
২০১৮ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর অভিনেত্রী দীপিকা কাকর ও অভিনেতা শোয়েব ইব্রাহিমের জীবনযাত্রায় নানা চড়াই-উতরাই এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল দীপিকা কাকরের ক্যান্সার রোগ ধরা পড়া। দ্বিতীয়বারের মতো যকৃতে টিউমার শনাক্ত হওয়ার পর অস্ত্রোপচার করা হলেও, তিনি এখনও নানা চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।
এই কঠিন সময়ে দীপিকা কাকর তার জীবনযাপনে তিনটি মৌলিক পরিবর্তন এনেছেন, যা তার স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। তার স্বামী শোয়েব ইব্রাহিম সম্প্রতি ইউটিউব ভ্লগের মাধ্যমে স্ত্রীর এই নতুন রুটিনের কথা প্রকাশ করেছেন।
প্রথম অভ্যাস: সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠা
দীপিকা কাকর আগে দেরিতে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস থাকলেও, এখন তাকে প্রতিদিন সকাল ৭টায় উঠতে হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে এই পরিবর্তন আনতে হয়েছে। নিয়মিত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমিয়ে ভোর ভোর ওঠার ফলে তার বিপাকীয় স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটছে, মেজাজও ভালো থাকছে। দীপিকার মতে, এই অভ্যাস তাকে দিনের অনেকটা সময় দিচ্ছে, যা পূর্বে সম্ভব ছিল না।
দ্বিতীয় অভ্যাস: নিয়মিত হাঁটাচলা
নতুন রুটিনের একটি বাধ্যতামূলক অংশ হলো প্রতিদিন কিছু সময় হাঁটা। অস্ত্রোপচার বা দীর্ঘ অসুস্থতার পর শরীরকে ধীরে ধীরে সক্রিয় রাখা অত্যন্ত জরুরি। চিকিৎসকদের মতে, হাঁটা এমন একটি কার্যকরী ব্যায়াম, যা শরীরে শক্তি ফিরিয়ে আনে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। প্রথম দিকে ক্লান্তি লাগলেও, দীপিকা এই অভ্যাসটি ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন।
তৃতীয় অভ্যাস: সন্ধ্যার আগে রাতের খাবার শেষ করা
দীপিকা কাকরের জন্য এখন সন্ধ্যা ৭টার পর কোনো খাবার গ্রহণ নিষিদ্ধ। চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং হজমশক্তি বাড়ানোর জন্য এই নিয়ম মেনে চলা হচ্ছে। সময়মতো খাবার গ্রহণ শরীরের জৈবঘড়ি ঠিক রাখে, হজমপ্রক্রিয়া উন্নত করে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। দুর্বল শরীরের পুনরুদ্ধারে এই অভ্যাসটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের চাবিকাঠি
দীপিকা কাকরের চিকিৎসকদের মতে, কেবল ওষুধ সেবনই নয়, নিয়মিত ঘুম, সময়মতো পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ এবং পরিমিত শারীরিক পরিশ্রম—এই তিনটির সমন্বয়ই সুস্থতার মূল চাবিকাঠি। শোয়েব ইব্রাহিম উল্লেখ করেছেন যে, এই নতুন অভ্যাসগুলো রপ্ত করা দীপিকার জন্য সহজ নয়, কিন্তু তিনি অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে চেষ্টা করছেন।
দীপিকা কাকরের এই জীবনযাত্রার পরিবর্তন শুধুমাত্র তার জন্যই নয়, বরং আজকের ব্যস্ত জীবনে অনেকের জন্যই একটি শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। ক্যান্সারের মতো কঠিন রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে কীভাবে ছোট ছোট অভ্যাস বড় ভূমিকা রাখতে পারে, দীপিকার গল্প তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে।



