ক্যান্সার হাসপাতালের ডেপুটি ডিরেক্টরকে ছুরিকাঘাত মামলার তিন আসামির স্বীকারোক্তি
রাজধানীর জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের (এনআইসিআরএইচ) ডেপুটি ডিরেক্টর ড. আহমেদ হোসেনকে ছুরিকাঘাতের মামলায় তিন আসামি বুধবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এই ঘটনায় তিনটি পৃথক আদালতে তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয় এবং পরবর্তীতে তাদের কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
আসামিদের স্বীকারোক্তি ও আদালতের কার্যক্রম
তিন আসামির মধ্যে শামস আল আসাদুজ্জামান শিকদার ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে স্বীকারোক্তি দেন। একই দিনে সালাউদ্দিন ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট মনজুরুল ইসলামের আদালতে এবং শরিফুল আলম করিম ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলামের আদালতে তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। এই জবানবন্দি গ্রহণের পর তিন আসামিকেই কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
এদিকে, ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসেন জুনায়েদের আদালত থেকে আরও দুই আসামি আমিনুল ইসলাম কালু ও বদিউল আল মালিককে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। এই দুই আসামির বিষয়ে স্বীকারোক্তির কোনো তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে তাদেরও জেল হেফাজতে রাখার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
ছুরিকাঘাতের ঘটনা ও মামলা দায়ের
গত ২০ এপ্রিল দুপুরে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরার পথে ড. আহমেদ হোসেনকে দুজন মুখোশধারী ব্যক্তি প্রকাশ্য দিবালোকে বারবার ছুরিকাঘাত করে। এই হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন এবং তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনার পরদিন ২১ এপ্রিল বনানী থানায় এই মামলা দায়ের করা হয়।
মামলাটি দায়েরের পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং কয়েকজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে। বুধবারের স্বীকারোক্তিগুলো তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আদালতে আসামিদের জবানবন্দি দেওয়ার পর তাদের আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত মোট পাঁচজন আসামিকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
এই ঘটনা স্বাস্থ্য খাতের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, বিশেষ করে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার ওপর এমন হামলা উদ্বেগজনক। কর্তৃপক্ষ এখন তদন্ত জোরদার করেছে এবং অন্যান্য সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।



