প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, ঘন ঘন টয়লেটে যাওয়া বা কোমরে হালকা ব্যথার মতো সাধারণ শারীরিক সমস্যাকে অনেকেই অবহেলা করেন। কেউ কেউ এটিকে বয়স, পানিশূন্যতা বা সাময়িক সংক্রমণের ফল মনে করেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের লক্ষণ কখনও কখনও গুরুতর রোগের আগাম সতর্কবার্তা হতে পারে। বিশেষ করে মূত্রনালির ক্যানসার অনেক সময় একেবারে নীরবে শুরু হয়।
নীরব ক্যানসারের সতর্কসংকেত
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্লাডার, কিডনি, প্রোস্টেট কিংবা ইউরেটারের মতো মূত্রনালির ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে খুব সূক্ষ্ম উপসর্গ দেয়। শুরুতে এসব উপসর্গ এতটাই সামান্য হয় যে অনেকেই মাসের পর মাস তা গুরুত্ব দেন না। কিন্তু দেরি হলে ক্যানসার শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে, ফলে চিকিৎসা আরও কঠিন ও ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে ব্লাডার ও কিডনি ক্যানসার শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসায় সফলতার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। তাই উপসর্গগুলো চিহ্নিত করা অত্যন্ত জরুরি।
প্রস্রাবে রক্ত যাওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংকেত
চিকিৎসকদের মতে, প্রস্রাবে রক্ত যাওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেতগুলোর একটি। এমনকি এটি যদি একবারের জন্যও ঘটে এবং ব্যথা না থাকে, তবুও বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। প্রস্রাবে রক্ত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
অন্যান্য উপসর্গ
এছাড়া ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া, প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা, প্রস্রাবের প্রবাহ দুর্বল হয়ে যাওয়া, রাতে বারবার প্রস্রাবের চাপ এবং তলপেট বা পিঠে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথাও উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
কেন এসব উপসর্গ উপেক্ষা করা হয়?
ভারতের চিকিৎসক ডা. অনিল থাকওয়ানি বলেন, অনেকেই এসব উপসর্গকে সাধারণ সংক্রমণ বা বয়সজনিত সমস্যা মনে করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে থাকলে এগুলো মূত্রনালির ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণও হতে পারে। সময়মতো পরীক্ষা না করালে রোগ শনাক্তে দেরি হয় এবং চিকিৎসা জটিল হয়ে পড়ে।
তিনি আরও জানান, সমস্যা হলো এসব লক্ষণ অনেক সময় ইউরিন ইনফেকশন বা প্রোস্টেট বড় হওয়ার উপসর্গের সঙ্গে মিলে যায়। তাই প্রস্রাব পরীক্ষা, স্ক্যান বা সিস্টোস্কোপির মতো পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা জরুরি।
দ্রুত শনাক্তকরণের গুরুত্ব
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, বর্তমানে ক্যানসারের চিকিৎসা অনেক উন্নত হলেও দ্রুত শনাক্তকরণ এখনও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে অস্ত্রোপচার, রেডিয়েশন বা আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে রোগ নিয়ন্ত্রণ তুলনামূলক সহজ হয়। কিন্তু ক্যানসার শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়লে চিকিৎসা দীর্ঘ ও কঠিন হয়ে যায়।
ঝুঁকিতে কারা?
চিকিৎসকদের মতে, ৫০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তি, ধূমপায়ী, রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে কাজ করা মানুষ এবং পরিবারে মূত্রনালির ক্যানসারের ইতিহাস রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
লজ্জা নয়, সচেতনতা জরুরি
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, লজ্জা বা সংকোচের কারণে অনেকেই প্রস্রাবজনিত সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি করেন। অথচ শরীরের কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন বারবার দেখা দিলে সেটিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং দ্রুত চিকিৎসা পরামর্শ ভবিষ্যতের বড় ঝুঁকি এড়াতে সাহায্য করতে পারে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া



