অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খানের স্মরণসভায় শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধাঞ্জলি
সাখাওয়াত আলী খানের স্মরণসভায় শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধা

অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খানের স্মরণসভায় শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধাঞ্জলি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে আজ সোমবার দুপুরে অধ্যাপক মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে ‘স্মৃতি তর্পণ’ শিরোনামে এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সভায় সদ্য প্রয়াত অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খানের জীবন ও কর্মের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। বিভাগের শিক্ষক, সাবেক শিক্ষার্থী ও পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থেকে তাঁর স্মৃতিচারণা করেন।

শিক্ষক হিসেবে অভিভাবকের ভূমিকা

অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান শুধু একজন শিক্ষকই নন, শিক্ষার্থীদের জন্য অভিভাবক হয়ে উঠেছিলেন বলে উল্লেখ করেন অংশগ্রহণকারীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন বলেন, ‘সাখাওয়াত স্যার খুব কম শিক্ষকদের মধ্যে একজন যিনি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা শাস্ত্রকে সহজভাবে উপস্থাপন করতে পারতেন। তাঁর নিয়মানুবর্তিতা ও ক্লাসের পাঠ অধ্যয়নযোগ্য ছিল।’ তাঁর মতে, সাখাওয়াত স্যারের হাসিমুখ ও মজাদার উপস্থাপনা যেকোনো কঠিন বিষয়কে সহজ করে তুলত।

সাবেক শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণা

স্মরণসভায় যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সাবেক শিক্ষার্থী সুব্রত শংকর ধর বলেন, ‘১৯৭৭ সালে সাংবাদিকতা বিভাগে স্নাতক কোর্স চালু হলে সাখাওয়াত স্যার চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি আমাদের জীবনের অনেক জায়গা স্পর্শ করে আছেন, শিক্ষকের পাশাপাশি অভিভাবকও ছিলেন।’ প্রধানমন্ত্রীর ‘স্পিচ রাইটার’ এস এ এম মাহফুজুর রহমানও তাঁর ছাত্র ছিলেন এবং উল্লেখ করেন যে শিক্ষকদের ভাবনা ও বলার ভঙ্গি আজও তাদের কথায় প্রতিফলিত হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সহকর্মী ও পরিবারের বক্তব্য

সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক কাজী আবদুল মান্নান ১৯৭৪ সাল থেকে সাখাওয়াত আলী খানের সহকর্মী ছিলেন। তিনি বলেন, ‘সাখাওয়াত ভাইয়ের সেন্স অব হিউমার খুব শক্তিশালী ছিল, তাঁকে আমি মিস করব।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য সায়মা হক বিদিশা যোগ করেন যে সাখাওয়াত স্যার শিক্ষার্থীদের জীবন গড়ার কাজ অত্যন্ত সুচারুরূপে সম্পন্ন করেছেন এবং তিনি একজন অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব।

অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খানের মেয়ে ও প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক সুমনা শারমীন বলেন, ‘বাবার মনজুড়ে ছিলেন ছাত্রছাত্রীরা। তাঁর জীবন ছিল নিয়মতান্ত্রিক এবং পেশার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি কবিতা ও খেলা ভালোবাসতেন, সাংবাদিকতাকে জীবনযাপন দিয়ে লালন করেছেন।’

শিক্ষকদের মূল্যায়ন

বিভাগের বর্তমান শিক্ষকরা সাখাওয়াত আলী খানের ছাত্র হিসেবে পরে সহকর্মী হয়েছিলেন। অধ্যাপক কাবেরী গায়েন বলেন, ‘সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ শাস্ত্রকে তাঁর মতো সহজ করে বলতে পেরেছেন এমন শিক্ষক বিরল। তিনি পদবি ছাড়াই শুধু শিক্ষক হয়েই সম্মানিত ছিলেন।’ অধ্যাপক মফিজুর রহমান যোগ করেন যে সাখাওয়াত আলী খানের রাশভারী ও সরলতার মিশেল কম পাওয়া যায় এবং তাঁকে অধ্যয়ন করা জরুরি।

আয়োজন ও অংশগ্রহণ

স্মরণসভাটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তৈয়েবুর রহমানের সভাপতিত্বে ও অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়। শুরুতে অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খানের জীবনী তুলে ধরেন সহযোগী অধ্যাপক শাওন্তী হায়দার এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, প্রশিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা ও অ্যালামনাই সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। দুজন শিক্ষার্থী গান পরিবেশন করে শ্রদ্ধা জানান।

অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান ১৯৭২ সাল থেকে পাঁচ দশকের বেশি সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন এবং ২০০৮ সালে অবসর নেওয়ার পরও সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক ও ‘অনারারি প্রফেসর’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশে সাংবাদিকতা শিক্ষার পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত তিনি ৮৫ বছর বয়সে গত ৯ মার্চ ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। এই স্মরণসভা তাঁর অবদান ও আদর্শকে স্মরণ করে আয়োজিত একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান ছিল।