বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ছাড়া বর্তমান বিশ্বে টিকে থাকা অসম্ভব: ড. সায়মা ফেরদৌস
বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ছাড়া বিশ্বে টিকে থাকা অসম্ভব: ড. সায়মা

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ছাড়া বর্তমান বিশ্বে টিকে থাকা অসম্ভব: ড. সায়মা ফেরদৌস

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ সরকারি কর্ম-কমিশনের সদস্য ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস বলেছেন, বর্তমান বিশ্বে টিকে থাকতে হলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, বর্তমান যুগ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগ। একটি দেশ বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে যত উন্নত, সেই দেশ ততই এগিয়ে যাবে।

কুমিল্লায় জাতীয় বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলায় ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ, বিজ্ঞান মেলা এবং ১০ম জাতীয় বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘উদ্ভাবন নির্ভর বাংলাদেশ গঠনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এ আয়োজন করা হয়।

ড. সায়মা ফেরদৌস বলেন, বাংলাদেশ এখন ভীষণ ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে আছে। বাংলাদেশের পেছনে তাকালে শুধু সংগ্রামের ইতিহাস দেখা যায়। বাংলাদেশ যেন প্রতিটি ক্ষেত্রে সংগ্রামের মধ্যেই চলছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, এই অনুষ্ঠানে এসে বুঝতে পেরেছি, বাংলাদেশের পেছনে সংগ্রামের ইতিহাস থাকলেও সামনের দিনগুলো অপার সম্ভাবনাময়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ছোট ছোট স্কুলের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবন

তিনি বলেন, ছোট ছোট স্কুলের ছেলেমেয়েরা এত এত উদ্ভাবন করছে, যা আমাদের উৎসাহ দিতে হবে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা করতে হবে। তবেই তারা আরও নতুন নতুন আবিষ্কারে মত্ত হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ড. সায়মা বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা নিয়ে কাজ করছি। আমার পরিকল্পনা রয়েছে শিক্ষার পাশাপাশি নারী ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করার। ধারণা করা হয়, জ্ঞান-বিজ্ঞানে নারীরা পিছিয়ে থাকে; কিন্তু আজকে এখানে এসে দেখলাম সে ধারণা ভুল। এখানে মেয়েরাই বিভিন্ন উদ্ভাবনে এগিয়ে আছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি আরও বলেন, একটা জিনিস ঠিক, শহরের স্কুলগুলোতে যে সুযোগ-সুবিধা আছে, তা গ্রামের স্কুলে নেই। শিক্ষকদের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে তাদের এগিয়ে নিতে হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সূজন চন্দ্র রায়ের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন:

  • সহকারী কমিশনার (ভূমি) সজীব তালুকদার
  • উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবু তায়েব
  • সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আকতার হোসেন
  • সুয়াগাজী কলেজের অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক চৌধুরী
  • উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মেজবাহ উদ্দিন
  • চৌয়ারা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবুল বাশার প্রমুখ

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। পরে মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন এবং শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প সম্পর্কে খোঁজখবর নেন অতিথিরা।

মেলার উদ্দেশ্য ও প্রত্যাশা

আয়োজকরা জানান, এ মেলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞান অর্জনে উৎসাহিত করবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মাধ্যমে উদ্ভাবন নির্ভর বাংলাদেশ গঠনই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

ড. সায়মা ফেরদৌসের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতি ছাড়া আধুনিক বিশ্বে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।