চট্টগ্রাম বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষার্থী সংখ্যা হ্রাস: গতবারের তুলনায় ১০ হাজার ৫ জন কম
চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীন পাঁচ জেলায় ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত ২০২৫ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ১ লাখ ৪০ হাজার ৬৭৩ জন শিক্ষার্থী, কিন্তু এ বছর সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৬৮ জনে। অর্থাৎ, গতবারের তুলনায় এবার পরীক্ষার্থী কমেছে ১০ হাজার ৫ জন।
ছাত্র-ছাত্রী উভয়ের সংখ্যায় পতন
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এ বছর ছাত্রের সংখ্যা কমেছে ৫ হাজার ৩২৭ জন। পাশাপাশি, ছাত্রীর সংখ্যাও হ্রাস পেয়েছে ৪ হাজার ৬৭৮ জন। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ৫৬ হাজার ৩২৫ জন ছাত্র এবং ৭৪ হাজার ৩৪৩ জন ছাত্রী অংশ নেবে। গত বছর ছাত্র সংখ্যা ছিল ৬১ হাজার ৬৫২ জন এবং ছাত্রী সংখ্যা ছিল ৭৯ হাজার ২১ জন।
পরীক্ষাকেন্দ্র ও বিদ্যালয়ের সংখ্যায় পরিবর্তন
এ বছর পরীক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যাও কমেছে। গত বছর এই পাঁচ জেলায় পরীক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যা ছিল ২১৯টি, যা এবার কমে ২১৮টিতে দাঁড়িয়েছে। চট্টগ্রাম জেলায় দুটি কেন্দ্র কমেছে, অন্যদিকে বান্দরবান জেলায় একটি কেন্দ্র বেড়েছে। তবে, অংশগ্রহণকারী বিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়েছে ৫৪টি। এবার মোট ১ হাজার ২১৮টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেবে, যেখানে গত বছর এই সংখ্যা ছিল ১ হাজার ১৬৪টি।
জেলা ভিত্তিক পরিসংখ্যান
চট্টগ্রাম বোর্ডে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী কমেছে চট্টগ্রাম জেলায়। গতবারের তুলনায় এ জেলায় পরীক্ষার্থী কমেছে ৬ হাজার ৭৯৯ জন। এবার চট্টগ্রাম জেলা থেকে ৯২ হাজার ২৯৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। অন্যান্য জেলাগুলোর মধ্যে কক্সবাজার জেলায় অংশ নিচ্ছে ১৮ হাজার ৯১৪ জন, রাঙামাটিতে ৭ হাজার ৪১৬ জন, খাগড়াছড়িতে ৮ হাজার ৬৯ জন এবং বান্দরবানে ৩ হাজার ৯৭৩ জন।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের বক্তব্য
চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী জানান, এবার পরীক্ষা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য ৭৬টি পর্যবেক্ষক দল গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৬টি সাধারণ ভিজিল্যান্স এবং ১০টি বিশেষ ভিজিল্যান্স টিম রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘থানা শিক্ষা কর্মকর্তারা এখনো পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের কোনো খবর দেননি। তবে আমরা দুর্গম এলাকার কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করছি।’
২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা ২১ এপ্রিল শুরু হবে বলে চট্টগ্রাম বোর্ড থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের এই পরিসংখ্যান শিক্ষার্থী সংখ্যার প্রবণতা এবং পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনগুলো তুলে ধরছে, যা ভবিষ্যতের পরিকল্পনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।



