পানিতে ডুবে যাওয়া বাস ভাসিয়ে তোলার স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি উদ্ভাবন করল রামু কলেজের শিক্ষার্থীরা
পানিতে ডুবে যাওয়া বাস ভাসানোর প্রযুক্তি উদ্ভাবন শিক্ষার্থীদের

পানিতে ডুবে যাওয়া বাস ভাসিয়ে তোলার স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি উদ্ভাবন করল রামু কলেজের শিক্ষার্থীরা

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় অনুষ্ঠিত বিজ্ঞান মেলায় স্থানীয় শিক্ষার্থীদের একটি অভিনব উদ্ভাবন সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। রামু সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা তৈরি করেছেন এমন একটি প্রযুক্তি, যা পানিতে ডুবে যাওয়া বাসকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভাসিয়ে তুলতে সক্ষম। এই উদ্ভাবন ভবিষ্যতে বাস্তব জীবনের দুর্ঘটনায় দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞান মেলায় উদ্ভাবনের প্রদর্শনী

জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে রামু উপজেলা পরিষদ মাঠে দুই দিনব্যাপী বিজ্ঞান মেলার আয়োজন করা হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) সকাল ১০টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে রাব্বানী চৌধুরী এই মেলার উদ্বোধন করেন। মেলায় উপজেলার প্রায় ১৯টি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শন করছে।

বিভিন্ন সৃজনশীল প্রকল্পের মধ্যে রামু সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের তৈরি এই প্রযুক্তি বিশেষভাবে দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করেছে। মেলার অংশ হিসেবে বিজ্ঞান কুইজ ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের মাঝে বিজ্ঞানমনস্কতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রযুক্তির কার্যপ্রণালী ও উপকরণ

এই উদ্ভাবনী প্রকল্পের কার্যপ্রণালী অত্যন্ত উন্নত ও স্বয়ংক্রিয়। যখন কোনো বাস পানিতে পড়ে যায়, তখন একটি ওয়াটার লেভেল সেন্সর পানির স্তর বৃদ্ধি শনাক্ত করে। এরপর সেই সংকেত পেয়ে Arduino UNO সক্রিয় হয়ে একটি রিলে মডিউলের মাধ্যমে এয়ার পাম্প চালু করে। পাম্পটি নির্দিষ্ট চেম্বারে বাতাস প্রবাহিত করে পানির চাপ কমিয়ে ডুবে যাওয়া বাসটিকে ধীরে ধীরে পানির উপর ভাসিয়ে তোলে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রকল্পটির বিষয়ে রামু কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী তাহমিনা খানম রিনি ও আসরার উল্লাহ তাওহীদ জানান, এটি তৈরিতে খেলনা বাস, ওয়াটার সেন্সর, রিলে মডিউল, ১২ ভোল্ট ব্যাটারি, সংযোগ তার ও এয়ার পাম্পসহ সহজলভ্য উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে। তারা উল্লেখ করেন যে এটি মূলত একটি ধারণাভিত্তিক মডেল, যা ভবিষ্যতে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও কার্যকরভাবে বাস্তবে প্রয়োগ করা সম্ভব।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্বরুপ মুহুরী, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. অসীম বরণ সেন, ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা সুশান্ত দেবনাথ, রামু উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রুজিনা আক্তার রুমিসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশে বিজ্ঞান মেলার ভূমিকা

আয়োজকরা জানান, এ ধরনের বিজ্ঞানভিত্তিক আয়োজন শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও বিজ্ঞানমনস্কতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি বাস্তব জীবনের সমস্যার প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান খুঁজে বের করার আগ্রহও বাড়ায়। সচেতন মহলের মতে, রামু সরকারি কলেজের এই উদ্ভাবনী প্রকল্পটি ভবিষ্যতে উন্নত গবেষণা ও বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে পানিতে ডুবে যাওয়া যানবাহন উদ্ধারে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।

এই প্রযুক্তি উদ্ভাবন শুধুমাত্র একটি মডেল হিসেবে নয়, বরং ভবিষ্যতে উন্নত গবেষণার মাধ্যমে বাস্তব জীবনে প্রয়োগের অপার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। শিক্ষার্থীদের এই প্রচেষ্টা স্থানীয়ভাবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি চর্চাকে আরও গতিশীল করবে বলে আশা করা হচ্ছে।