শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে ওমর ওসমানের পড়াশোনা, প্রথম আলোর প্রতিবেদনের ফল
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার দরিদ্র তরুণ ওমর ওসমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও পড়াশোনার যাবতীয় ব্যয়ভার এখন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের দায়িত্বে। সম্প্রতি প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষামন্ত্রী সরাসরি এগিয়ে এসে ওমরের শিক্ষাজীবনকে নিশ্চিত করেছেন।
প্রথম আলোর সংবাদ প্রকাশ ও মন্ত্রীর সাড়া
গত ১ মার্চ প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণে 'বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির টাকা জোগাতে শ্রমিকের কাজ করছেন ওমর' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এই প্রতিবেদনে উঠে আসে, কুষ্টিয়ার কুমারখালীর মহিষাখোলা গ্রামের গৃহিণী ফাতেমা খাতুন ও মৃত খবির উদ্দিন দম্পতির বড় ছেলে ওমর ওসমান ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ, জাহাঙ্গীরনগর ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগে ভর্তি হয়েছেন। কিন্তু অর্থাভাবে তার পড়াশোনা থমকে যাওয়ার উপক্রম হয়, ফলে তাকে দিনমজুরির কাজ শুরু করতে হয়।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত সচিব (পিএস) ওমরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর আজ বুধবার বিকেলে ওমরকে ঢাকায় শিক্ষামন্ত্রীর কার্যালয়ে ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে তিনি একটি আবেদন লিখে দেন এবং শিক্ষামন্ত্রী সরাসরি তার পড়াশোনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
শিক্ষামন্ত্রীর পদক্ষেপ ও ব্যয়ভার বহন
শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত সচিব অধ্যাপক সোহেল প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রী প্রথম আলোর সংবাদ দেখে ওমর ওসমানের পড়াশোনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। মন্ত্রীর নির্দেশে তিনি ওমরের টিউশন ফিসহ যাবতীয় ব্যয় নির্বাহের বিষয়ে নিশ্চিত করতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলেছেন। এর মাধ্যমে ওমরের শিক্ষাজীবন এখন সম্পূর্ণরূপে সুরক্ষিত হয়েছে।
ওমর বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসীন হলে এক বড় ভাইয়ের কাছে আপাতত থাকছেন। তিনি বলেন, 'প্রথম আলো আমার জীবনকে পাল্টে দিল। পড়াশোনা বন্ধ হওয়া থেকে আমাকে তুলে এনেছে। প্রথম আলোর কাছে আমি চিরঋণী।' তিনি আরও উল্লেখ করেন যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের সামনে গিয়ে তার মন ভরে গেছে, যা তার জীবনের প্রথম অভিজ্ঞতা।
সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন অনেকেই
প্রথম আলোর প্রতিবেদন প্রকাশের পর ওমরের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির টাকাসহ শিক্ষাজীবন ভালোভাবে পার করতে অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। সবশেষে শিক্ষামন্ত্রীর এগিয়ে আসা এই সহযোগিতার ধারাকে আরও শক্তিশালী করেছে। ওমর এখন আর শ্রমিকের কাজ করতে হবে না, বরং তার পড়াশোনায় পুরোপুরি মনোযোগ দিতে পারবেন।
এই ঘটনা দারিদ্র্যের মধ্যে থেকেও উচ্চশিক্ষার প্রতি তরুণদের আকাঙ্ক্ষা এবং গণমাধ্যমের ভূমিকার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। ওমরের মতো অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী যারা আর্থিক সংকটে পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন, তাদের জন্য এটি একটি আশার আলো হিসেবে কাজ করতে পারে।



