এসিসিএ বাংলাদেশ ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চুক্তি: শিক্ষার্থীদের জন্য পেশাদার অ্যাকাউন্টিংয়ে নতুন পথ
এসিসিএ ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চুক্তি: অ্যাকাউন্টিংয়ে নতুন সুযোগ

এসিসিএ বাংলাদেশ ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর

পেশাদার অ্যাকাউন্টিং শিক্ষা প্রসারে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে এসিসিএ বাংলাদেশ। প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো চাকরি-প্রস্তুত দক্ষতা সম্প্রসারণ এবং পেশাদার অ্যাকাউন্টিংয়ে প্রবেশের পথ সুগম করা।

শিক্ষার্থীদের জন্য কী সুবিধা আসছে?

এই সহযোগিতার আওতায় স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা এসিসিএ কোয়ালিফিকেশন পথে প্রবেশ করবে। তারা প্রথমে সার্টিফাইড অ্যাকাউন্টিং টেকনিশিয়ান (সিএটি) প্রোগ্রামে অংশ নেবে। এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ব্যবহারিক ও চাকরিদাতাদের মূল্যায়নকৃত দক্ষতা অর্জন করতে পারবে।

এসব দক্ষতা কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (এসএমই), অ্যাকাউন্টিং ফার্ম এবং ক্রমবর্ধমান বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও) খাতে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিবছর প্রায় দশ লাখ স্নাতক তৈরি করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে ভূমিকা

এই উদ্যোগটি সিএটি থেকে শুরু করে বৈশ্বিকভাবে স্বীকৃত এসিসিএ কোয়ালিফিকেশন পর্যন্ত একটি কাঠামোবদ্ধ অগ্রগতি পথ তৈরি করবে। ফলে শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে এবং বেকারত্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়ক হবে।

চুক্তি স্বাক্ষর ও উপস্থিতি

এসিসিএ বাংলাদেশের পক্ষে দেশীয় ব্যবস্থাপক প্রমা তাপসী খান এবং সিনিয়র বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার শাহ ওয়ালিউল মানজুর চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক এএসএম আমানুল্লাহ চুক্তি স্বাক্ষর করেন। উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান সাক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনারের বাসভবনে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যের ট্রেড এনভয় রাইট অনারেবল ব্যারোনেস রোজি উইন্টারটন অব ডনকাস্টার, ডিবিই এবং ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক উপস্থিত ছিলেন। ব্রিটিশ হাইকমিশন ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ অংশীদারিত্ব

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় ব্যারোনেস উইন্টারটন বলেন, এই এমওইউ স্বাক্ষর একটি সূক্ষ্ম মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হবে। এটি যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি নতুন অংশীদারিত্বের সূচনা করবে। এই চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ২৫,০০০ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আন্তর্জাতিক কোয়ালিফিকেশনে প্রবেশের সুযোগ পাবে।

এই উদ্যোগটি বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। পেশাদার অ্যাকাউন্টিং শিক্ষার সম্প্রসারণ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।