সরকারি অর্থায়নে এখনও ৪ হাজার ৫৯টি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে টেবিলে উত্থাপিত লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য প্রকাশ করেন। অধিবেশনের ১১ দিনের সকালের সেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ও বর্তমান অবস্থা
যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গাজী এনামুল হকের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারা দেশে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন মোট ২৪ হাজার ৩২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়নে এখনও ভবন নির্মাণ করা হয়নি এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৪ হাজার ৫৯টি। তিনি উল্লেখ করেন, এই পরিস্থিতিতে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার পর্যায়ক্রমে সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।
ভবন নির্মাণের বর্তমান পরিকল্পনা
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, শুধু একটি নির্দিষ্ট উপজেলায় একসঙ্গে একাধিক ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত বর্তমানে গ্রহণ করা হয়নি। তবে চলতি অর্থবছরে প্রতি সংসদীয় আসনে একটি স্কুল, একটি কলেজ এবং একটি বেসরকারি মাদ্রাসা বা বেসরকারি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষা খাতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এছাড়াও, শিক্ষামন্ত্রী জোর দিয়েছেন যে সরকার শিক্ষার মানোন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে এবং ভবন নির্মাণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দিকেও নজর রাখছে। তিনি বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন ছাড়াও শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির জন্য আমরা কাজ করছি।”
ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এই ৪ হাজার ৫৯টি প্রতিষ্ঠানে ভবন নির্মাণ সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আমরা পর্যায়ক্রমে সব প্রতিষ্ঠানে ভবন নির্মাণের কাজ এগিয়ে নেব, যাতে কোনো শিক্ষার্থী সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে এই প্রচেষ্টা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করবে।



