ঢাবি উপাচার্যের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক, উচ্চশিক্ষায় যৌথ উদ্যোগের আহ্বান
ঢাবি উপাচার্য ও ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক, উচ্চশিক্ষায় সহযোগিতা

ঢাবি উপাচার্য ও ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক, উচ্চশিক্ষায় যৌথ উদ্যোগের আহ্বান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। সোমবার উপাচার্যের কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে বিদ্যমান সাদৃশ্যকে উচ্চশিক্ষায় সহযোগিতার শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজে লাগানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।

শিক্ষাক্রম আধুনিকায়ন ও যৌথ উদ্যোগের প্রস্তাব

সাক্ষাৎকালে উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বর্তমান কর্মবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাঠ্যক্রম আধুনিকায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য নমনীয় শিক্ষাব্যবস্থা বা স্বল্পমেয়াদি ‘শর্ট কোর্স’ চালুর ওপরও আলোকপাত করেন। উপাচার্য বলেন, “প্রশাসনিক কাঠামো ও পাঠ্যক্রমের এই মিলকে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের উচ্চশিক্ষায় নতুন নতুন যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করা সম্ভব।” তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ ও ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার সাদৃশ্য একটি অনন্য সুযোগ তৈরি করেছে, যা গবেষণা ও শিক্ষা খাতে গতিশীলতা আনতে পারে।

শিক্ষা ও গবেষণা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি

বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভারতের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শিক্ষা ও গবেষণা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতা জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়:

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • যৌথ গবেষণা প্রকল্প বাস্তবায়ন
  • শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি সম্প্রসারণ
  • বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন

উভয় পক্ষ এই বিষয়গুলোতে আগ্রহ প্রকাশ করে এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার রূপরেখা নির্ধারণে সম্মত হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভারত সফরের আমন্ত্রণ ও সরকারি সহায়তার আশ্বাস

এ সময় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রতিনিধিদলকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান। তিনি বলেন, “কার্যকর সহযোগিতার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত প্রস্তাব দেওয়া হলে ভারত সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে।” এই আমন্ত্রণ দুই দেশের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়কে আরও গভীর করতে সাহায্য করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

উপস্থিতি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশা, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবছার কামালসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে হাইকমিশনার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত, নৃত্যকলা এবং থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘শিল্প ও সংগীতের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক’ শীর্ষক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন। পরে তিনি সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো পরিদর্শন করেন এবং আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে ‘হিন্দি বই হস্তান্তর’ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড দুই দেশের মধ্যে সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।