অননুমোদিত দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ ইউজিসির
অননুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ

অননুমোদিত দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ ইউজিসির

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) দেশে সরকার ও কমিশনের অনুমোদন ব্যতীত পরিচালিত সকল দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস এবং স্টাডি সেন্টারের শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ, ২০২৬) ইউজিসির ইন্টারন্যাশনাল কোলাবোরেশন বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক আদেশে এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

আবেদনের জন্য সময়সীমা নির্ধারণ

একই আদেশে অনুমোদন পাওয়ার লক্ষ্যে এসব প্রতিষ্ঠানকে আগামী ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখের মধ্যে কমিশনের কাছে আবেদন করার জন্য সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত থাকবে

গভীর উদ্বেগ প্রকাশ

ইউজিসির আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, কমিশন গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে সরকার ও ইউজিসির কোনো অনুমতি ছাড়াই বেশ কয়েকটি দেশি-বিদেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শাখা ক্যাম্পাস, স্টাডি সেন্টার ও টিউটোরিয়াল সেন্টার বর্তমানে সক্রিয়ভাবে পরিচালিত হচ্ছে। অনুমোদনহীন এই ধরনের প্রতিষ্ঠানের একটি বিস্তারিত তালিকা ইতোমধ্যে কমিশন কর্তৃপক্ষের হস্তগত হয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আইনি বিধান অনুসরণ

ইউজিসি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ‘বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানের শাখা ক্যাম্পাস বা স্টাডি সেন্টার পরিচালনা বিধিমালা, ২০১৪’ অনুযায়ী দেশে এ ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সুস্পষ্ট আইনি বিধান বিদ্যমান রয়েছে। উক্ত বিধিমালার ৪(৩) এর দফা (ঝ) অনুযায়ী, অননুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে বৈধতার আওতায় আসতে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কমিশনে আবেদন দাখিল করতে হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সতর্কতা ও আইনি ব্যবস্থা

কমিশনের পরিচালক মোছা. জেসমিন পারভীন স্বাক্ষরিত আদেশে আরও সতর্ক করে বলা হয়েছে, অন্যথায় অননুমোদিতভাবে কার্যক্রম চালিয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে শিগগিরই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই পদক্ষেপ শিক্ষা খাতের মান নিশ্চিতকরণ এবং অনিয়ম রোধে ইউজিসির দৃঢ় অবস্থানের প্রতিফলন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় আরও বেশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা জোরদার হচ্ছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের স্বার্থ রক্ষায় অননুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে এই নির্দেশনা একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।