শিক্ষামন্ত্রীর জোরালো দাবি: এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি সংস্কার অপরিহার্য
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি সংস্কারের জন্য জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বর্তমান পদ্ধতিতে পরীক্ষাগুলো ডিসেম্বর মাসে না নিয়ে পরবর্তী বছরের এপ্রিল ও জুন মাসে নেওয়ায় শিক্ষার্থীদের জীবনের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে, যা জাতীয় পর্যায়ে বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রতা ও সময় নষ্টের চিত্র
শিক্ষামন্ত্রী রোববার (২৯ মার্চ) রাজধানীর জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমিতে (নায়েম) আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শিক্ষার্থীদের ক্লাস ও অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা শেষ করে ফেলে। কিন্তু শিক্ষা বোর্ডগুলো এসএসসি ও এইচএসসির মতো গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষাগুলো সেই বছরের ডিসেম্বরে না নিয়ে পরের বছরের এপ্রিল ও জুন মাসে নিয়ে থাকে।
এই দীর্ঘসূত্রতার ফলে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা বা কর্মজীবনে প্রবেশে বিলম্ব ঘটছে, যা তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। মিলন বলেন, "এ বিষয়ে কার্যকর সংস্কার প্রয়োজন, যাতে শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় সঠিকভাবে কাজে লাগানো যায়"।
শিক্ষকদের ভূমিকা ও জাতীয় অঙ্গীকার
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষকদের ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি শিক্ষকদের জাতির কাইরোপ্র্যাকটিক চিকিৎসক হিসেবে বর্ণনা করেন, যারা দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলেন। তিনি বলেন, "শিক্ষা যদি জাতির মেরুদণ্ড হয়, তবে সেই মেরুদণ্ডকে সোজা রাখার দায়িত্ব শিক্ষকদের ওপরই বর্তায়"।
তিনি আরও যোগ করেন, নানান সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও শিক্ষকদের নৈতিক ও পেশাগত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। আগামীর বাংলাদেশ গঠনের জন্য এটি কোনো ব্যক্তি বা সরকারের একক অ্যাজেন্ডা নয়, বরং একটি জাতীয় অঙ্গীকার।
শিক্ষকদের প্রতি নির্দেশনা ও উন্নয়নের আহ্বান
এহছানুল হক মিলন শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, নিজেদের শিক্ষার্থীদের সন্তানতুল্য মনে করে তাদের গড়ে তুলতে হবে। দেশের সার্বিক উন্নয়নে শিক্ষকদের সম্মিলিত ও গঠনমূলক ভূমিকা অপরিহার্য। তিনি অতীতের সীমাবদ্ধতা পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দেন এবং সবাইকে আগামীর উন্নত বাংলাদেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ
এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, নায়েমের মহাপরিচালক ড. ওয়াসীম মো. মেজবাহুল হক এবং দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নতুন জাতীয়করণকৃত কলেজের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্য শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের সময় ব্যবস্থাপনা ও জাতীয় উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।



