তারেক রহমানের নতুন সরকারে শিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন, ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডের ঘোষণা
তারেক সরকারে শিক্ষামন্ত্রী মিলন, ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডের ঘোষণা

তারেক রহমানের নতুন সরকারে শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের দায়িত্ব গ্রহণ

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের পর রাতে তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এই দায়িত্বের বিস্তারিত ঘোষণা করেন। উল্লেখ্য, এর আগে ২০০১ সালে মন্ত্রিসভায় তিনি শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, যা তার শিক্ষা খাতে অভিজ্ঞতার সাক্ষ্য বহন করে।

শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের অঙ্গীকার

শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েই ড. মিলন স্পষ্টভাবে জানান, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক ও গুণগত পরিবর্তন আনা হবে। তার মতে, ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হবে’ এবং এটি কোনো বিকল্পহীন পদক্ষেপ। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ‘আমরা একটি গ্লোবাল ভিলেজে বসবাস করছি। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে গ্লোবাল কম্পিটিটিভনেসে আনতে হবে। এটি আর স্থানীয় কমোডিটি নয়, এটি একটি আন্তর্জাতিক কমোডিটি।’ এই বক্তব্যে তিনি শিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণের উপর জোর দেন।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ও কারিগরি শিক্ষার উপর গুরুত্ব

ড. এহছানুল হক মিলন তার পরিকল্পনায় ফোর্থ জেনারেশন ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশনের প্রযুক্তিগত দিকগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন:

  • ন্যানোটেকনোলজি, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, এবং বায়োটেকনোলজির মতো অত্যাধুনিক ক্ষেত্রগুলিতে শিক্ষা ব্যবস্থায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
  • শিল্প ও একাডেমিয়ার মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে কাজ করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা বাস্তব জীবনের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা অর্জন করতে পারে।
  • টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং (টিভেট) ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা হবে, যা দেশের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, ‘একটু অপেক্ষা করুন, নিশ্চয়ই দেখবেন। দায়িত্ব যেহেতু পেয়েছি, ইনশাল্লাহ অনেক চমক রয়েছে। শুরু হবে কয়েক দিনের মধ্যেই।’ এই মন্তব্যে তিনি দ্রুত পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন।

শিক্ষা খাতে অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

ড. মিলনের পূর্ববর্তী শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাকে এই নতুন চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত করেছে বলে ধারণা করা যায়। তার ভাষায়, ‘সর্বোপরি শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হবে’ এবং এটি শুধু স্থানীয় নয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অংশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘এটাকে আমাদের ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।’ এই ঘোষণাগুলো শিক্ষা খাতে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তনের সম্ভাবনা নির্দেশ করে।