বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর শুরু হতে এখন বাকি মাত্র ৩৩ দিন। আগামী ১১ জুন মেক্সিকো সিটিতে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠবে বৈশ্বিক এই আসরের। তবে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য নির্ধারিত সময়ের এক মাসের বেশি আগে স্কুল ছুটির ঘোষণা দিয়েছে মেক্সিকোর কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার (৮ মে) এই ঘোষণা দেওয়া হলে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
শিক্ষামন্ত্রীর ব্যাখ্যা
মেক্সিকোর শিক্ষামন্ত্রী মারিও ডেলগাডো জানিয়েছেন, এবারের শিক্ষাবর্ষ নির্ধারিত সময়ের ৪০ দিন আগে শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পেছনে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি এবং কয়েকটি রাজ্যে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। উত্তরাঞ্চলীয় সোনোরা রাজ্যে এক অনুষ্ঠানে ডেলগাডো বলেন, ‘আমরা ৫ জুনের মধ্যে শিক্ষাবর্ষ শেষ করতে যাচ্ছি। কারণ, অনেক রাজ্যে এখন প্রচণ্ড গরম পড়ছে, এর পাশাপাশি বিশ্বকাপের বিষয়টিও আছে।’ আগাম স্কুল বন্ধের ঘোষণা দিলেও পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের ক্লাস কিছুটা এগিয়ে আনার বিষয়টি কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করছে বলে জানান ডেলগাডো। বর্তমানে আগামী শিক্ষাবর্ষ ৩১ আগস্ট শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
ক্ষোভ ও শঙ্কা
এই ঘোষণায় ক্ষোভে ফুঁসছেন দেশটির শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা। একই সঙ্গে শঙ্কা প্রকাশ করেছে শিক্ষাখাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোও। মেক্সিকোর পাবলিক পলিসি থিঙ্কট্যাংক ‘মেক্সিকো ইভালুয়া’ সতর্ক করে বলেছে, ‘স্কুলের ছুটি এগিয়ে আনলে ২ কোটি ৩৪ লাখের বেশি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে তাদের শেখার সময় যেমন কমবে, তেমনি বিদ্যমান বৈষম্য ও পিছিয়ে পড়ার হার আরও বাড়বে।’
অন্যদিকে ব্যবসায়ী সংগঠন ‘কোপারমেক্স’ এ সিদ্ধান্তকে ‘হঠকারী’ উল্লেখ করে বলেছে, এর ফলে কর্মজীবী পরিবারগুলোর কাজের সূচিতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। মেক্সিকো প্রেসিডেন্টের বিরোধীদের দ্বারা পরিচালিত পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য জালিসকো এ সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ। সেখানকার কর্মকর্তারা জানিয়ে দিয়েছেন, তারা আগের সূচি অনুযায়ী ৩০ জুন পর্যন্ত স্কুল খোলা রাখবেন। তবে এই রাজ্যের শহর গুয়াদালাহারায় বিশ্বকাপের যে চারটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, শুধু সেই চার দিন কৌশলগত কারণে স্কুল বন্ধ রাখা হবে।



