ঢাবিতে প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ-খালেদা হাবিব স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠিত
ঢাবিতে ইবরাহীম খাঁ-খালেদা হাবিব স্মারক বক্তৃতা

ঢাবিতে প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ-প্রিন্সিপাল খালেদা হাবিব স্মারক বক্তৃতা ২০২৬ অনুষ্ঠিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ-প্রিন্সিপাল খালেদা হাবিব স্মারক বক্তৃতা ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রোববার বেলা সোয়া ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের ‘স্পেশাল কনফারেন্স রুমে’ এ স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠিত হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে বক্তৃতা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. আবুল কালাম সরকার। স্মারক বক্তৃতা উপস্থাপন করেন বাংলা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ওয়াকিল আহমেদ।

ট্রাস্ট ফান্ডের দাতা মোসাদ্দেক হাবিবের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে বক্তৃতা সভার সূচনা হয়। মোসাদ্দেক হাবিব প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁর জীবনী সবার সামনে তুলে ধরেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শিক্ষকদের ভূমিকা

স্মারক বক্তব্যে অধ্যাপক ওয়াকিল আহমেদ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাহসী ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, আন্দোলনের প্রধান শক্তি ছিল নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা, তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা নৈতিক সাহস, প্রকাশ্য সমর্থন, মানববন্ধন, বিবৃতি, মিছিল ও লেখনীর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের মনোবল বাড়িয়েছেন। শিক্ষার্থীরা যখন মাঠে নিজেদের শিক্ষকদের পাশে দেখেছে, তখন আন্দোলনের সাহস ও গতি বহুগুণ বেড়ে গেছে।

অধ্যাপক ওয়াকিল আহমেদ আরও বলেন, এই গণ–অভ্যুত্থানে শিক্ষক সমাজের ভূমিকা খাটো করে দেখার সুযোগ নেই; ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই ইতিহাস থেকে অনুপ্রাণিত হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রধান অতিথির বক্তব্য

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, প্রিন্সিপাল ইবরাহিম খাঁ একজন কীর্তিমান লেখক ছিলেন। বাংলাদেশের মুসলিম সমাজে যাঁরা বড় ধরনের অবদান রেখেছেন, তাঁদের মধ্যে তিনি একজন বিশাল ব্যক্তিত্ব। তাঁর ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে সমাজের অনেক পরিবর্তনের কথা আমরা জানি। তাঁর স্মৃতিকথা ‘বাতায়ন’ সমকালের মুসলিম সমাজের একটা বিশ্বস্ত দলিল হিসেবে বিবেচিত আছে।

কলা অনুষদের ডিনের বক্তব্য

কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. আবুল কালাম সরকার বলেন, অধ্যাপক ওয়াকিল আহমেদের উপস্থাপিত তথ্যনির্ভর প্রবন্ধ জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবদান চলমান রাজনৈতিক আন্দোলনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল, যা অবধারিত সত্য।

প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁকে স্মরণ করে তিনি বলেন, কিছু মানুষ মৃত্যুর পরও কর্মের মাধ্যমে বেঁচে থাকেন; ইবরাহীম খাঁ তেমনই একজন ব্যক্তি, যিনি আজও মানুষের মাঝে জীবিত আছেন।

সভাপতির বক্তব্য

সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ও প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ-প্রিন্সিপাল খালেদা হাবিব স্মারক ট্রাস্ট ফান্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘আজকে আমরা এমন একজন মানুষ সম্পর্কে কথা বলতে দাঁড়িয়েছি, যিনি এ বাংলার মুসলমানদের শিক্ষায় বিশেষ অবদান রেখেছেন। এ জনপদের মুসলিমদের শিক্ষিত করতে যাঁরা কাজ করেছেন, তাঁদের মধ্যে তিনি অন্যতম।’

ট্রাস্ট ফান্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতার যে ঘাটতি থাকে, এই ট্রাস্ট ফান্ডগুলো তা পূরণ করতে সাহায্য করে। ইবরাহিম খাঁকে নিয়ে গবেষণা, আলোচনা ও বক্তৃতার আয়োজন করা বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব হলেও নানা সীমাবদ্ধতার কারণে সব সময় তা সম্ভব হয় না। এই ট্রাস্ট ফান্ড সেই ঘাটতি পূরণ করেছে।

এ ছাড়াও বক্তৃতা সভায় ধন্যবাদ জ্ঞাপন বক্তৃতা দেন বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম।