পদ না পেয়ে ফেসবুক লাইভে কাঁদলেন ছাত্রদল কর্মী
পদ না পেয়ে ফেসবুক লাইভে কাঁদলেন ছাত্রদল কর্মী

ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের কমিটিতে পদ না পেয়ে ফেসবুক লাইভে এসে অঝোরে কেঁদেছেন সংগঠনের এক কর্মী। আহসান উল্লাহ (নয়ন) নামের ওই কর্মী তার ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা নৈরাশ ছিলাম, এখনো নৈরাশ রইলাম। ৫ আগস্টের পরের লোক আইনা আপনারা কমিটিতে বসাইছেন। আমরা এত দিন আন্দোলন সংগ্রাম হরতাল কইরা কমিটিতে আসতে পারলাম না। আপনারা বর্তমানে যেটা করলেন, এটা আপনাদের করা উচিত হয় নাই।’ পরে এই ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

আহসান উল্লাহর পরিচয়

আহসান উল্লাহ (২২) ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ভাবখালি ইউনিয়নের আব্দুল হাইয়ের ছেলে। তিনি মুক্তাগাছা উপজেলার শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজের স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। গতকাল শনিবার রাত ১১টার দিকে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের কমিটি প্রকাশের পর তিনি বিভিন্ন অভিযোগ এনে ফেসবুক লাইভে যুক্ত হন। এ সময় তিনি অঝোরে কাঁদতে থাকেন।

কমিটি ঘোষণা

শনিবার রাত ৯টায় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের ৩১১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে আজিজুল হাকিম আজিজকে সভাপতি ও রাকিব হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভিডিওতে আহসান উল্লাহর বক্তব্য

ছড়িয়ে পড়া ২ মিনিট ৭ সেকেন্ডের ভিডিওতে আহসান উল্লাহ বলেন, ‘আমার কাছে প্রমাণ আছে, আমার কাছ থেকে নিয়া যায়েন। আওয়ামী লীগের সাথে লক্ষ লক্ষ ছবি থাকা সত্ত্বেও তাদেরকে কমিটিতে দিছেন। আর আমরা জীবন যৌবন সব ধ্বংস করে ফেলছি এই ছাত্রদলের জন্য। আপনারা আমাদেরকে রাখেন নাই, আপনাদের এই বিচার এই প্রেক্ষাপট আজ থেকে ছেড়ে দিলাম। ছাত্রদল করতে যে আমরা জীবনের সবকিছু হারিয়ে ফেলছি, ছাত্রদল করায় নিজের হয়ে যাওয়া নৌবাহিনীর চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়েছি। আমাদের জঙ্গি সিল মারা হয়েছে। আমরা সবকিছু ছাইড়া এই স্বৈরাচার পতন করলাম, আর আপনারা ৫ আগস্টের পরের লোক দিয়ে কমিটি করলেন। আপনাদের ব্রেইনে কী আছে? আপনারা কি চাইতেছেন? একটা ত্যাগী লোক রাখলেন না, কোন কারণে রাখলেন না।’

সভাপতির বক্তব্য

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আজিজুল হাকিম বলেন, ‘ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। আমাদের ইউনিটে হাজার হাজার নেতা–কর্মী জেল–জুলুমের শিকার হয়েছে। যারা সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয় ছিল, দায়িত্ব নেওয়ার পর তাদের প্রত্যেককে মূল্যায়ন করা হয়েছে। যে ছেলে অভিযোগ করেছে, তাকে অবমূল্যায়িত করা হয়েছে, সে গত এক বছরে সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় ছিল। গত এক বছরে কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রমে না থাকা এবং ব্যক্তিগতভাবেও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেনি। ফলে আমরা ধরে নিয়েছিলাম সে হয়তো ছাত্রদলের রাজনীতি আরও না–ও করে থাকতে পারে।’

আজিজুল হাকিম আরও বলেন, ‘ছাত্রলীগ বা আওয়ামী লীগ সম্পৃক্ততা নিয়ে ঢালাওভাবে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, তা সত্য নয়। আমি চেষ্টা করেছি, গ্রুপিংয়ের ঊর্ধ্বে গিয়ে সবাইকে মূল্যায়ন করার।’