তিন দশক পর শাবিপ্রবির নৃবিজ্ঞান বিভাগের পুনর্মিলনী
তিন দশক পর শাবিপ্রবির নৃবিজ্ঞান বিভাগের পুনর্মিলনী

কানাডা থেকে হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছেন শেখ শাহ তানভীর কাওকাব। বহুদিন পর ক্যাম্পাসে সহপাঠী, বন্ধু ও সিনিয়র-জুনিয়রদের দেখে তিনি আবেগাপ্লুত। পরিচিত পথ, চেনা মুখ আর স্মৃতির মাঝে দাঁড়িয়ে তানভীর বলছিলেন, ‘কয়েক মাস আগেই দেশ থেকে একটা কাজ শেষ করে কানাডা গিয়েছি। এর মধ্যে শুনলাম বিভাগের পুনর্মিলনী। সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইনি। চলে এলাম। শেকড়ে ফেরার অনুভূতি অন্য রকম।’ শুধু তানভীর নন, পুনর্মিলনীতে যোগ দিতে বিদেশ থেকে এসেছিলেন এমন প্রায় ১০ জন প্রাক্তন শিক্ষার্থী।

তিন দশকের মিলনমেলা

শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে ১৭ ও ১৮ এপ্রিল তিন দশক পূর্তি ও পুনর্মিলনীর আয়োজন করে নৃবিজ্ঞান বিভাগ। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসেছিলেন অ্যালামনাইরা। ১৯৯৬ সালে মাত্র ২০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে শাবিপ্রবিতে শুরু হয়েছিল নৃবিজ্ঞান বিভাগের পাঠদান কার্যক্রম। তিন দশকে ৩০টি ব্যাচ। প্রায় প্রতি ব্যাচ থেকেই কেউ না কেউ ছিলেন। অনেকে পুরোনো বন্ধুকে খুঁজে ফিরছিলেন, কেউ স্মরণ করছিলেন ক্লাসরুমের দিনগুলো। একপর্যায়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে ক্যাম্পাসজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের রং। ৩০ বছরের জন্য কাটা হয় ৩০ পাউন্ডের কেক।

একাডেমিক সিম্পোজিয়াম ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

বিকেলে একাডেমিক সিম্পোজিয়ামে শুরু হয় আরেক অধ্যায়। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নৃবিজ্ঞানী অধ্যাপক জেমস ম্যাকডোনাল্ড নৃবিজ্ঞানের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘মানুষের গল্প বুঝতে হলে মানুষের কাছাকাছি যেতে হয়।’ সন্ধ্যা নামলে আলো আর সুরে ভরে ওঠে মিলনায়তন। সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় উঠে আসে বিভাগের নিজস্বতা। এরপর গালা ডিনারে সবাই একসঙ্গে বসে হাসি, গল্প আর আড্ডায় মেতে ওঠে। দ্বিতীয় দিনের আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অ্যালামনাইদের অনুভূতি

মিলনমেলায় ঢাকা থেকে আসা প্রাক্তন শিক্ষার্থী আবু তাহের বলেন, ‘আমি মনে করি, নৃবিজ্ঞান বিভাগ আমার বাড়ি, নৃবিজ্ঞানের সবাই আমার পরিবারের সদস্য। অনেক দিন পর সবার সঙ্গে এক হতে পারলে অন্য রকম একটা অনুভূতি হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগের উন্নয়নে অ্যালামনাইদের যুক্ত করার এমন সুযোগ বারবার আসা দরকার।’ নৃবিজ্ঞান অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহজাহান মিয়া বলেন, ‘২০১৪ সালের প্রথম পুনর্মিলনীরই ধারাবাহিকতা আজকের অনুষ্ঠান। অ্যালামনাইদের এই মেলবন্ধনই বিভাগের বড় শক্তি। এই বন্ধন ভবিষ্যতেও পথ দেখাবে।’

সমাপ্তি

শেষ বিকেলে ব্যাচভিত্তিক ছবি তোলা আর পুরোনো বন্ধুদের ডাকাডাকিতে আবারও সরব হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। কেন্দ্রীয় মিলনায়তন মঞ্চে গান করে রিম, নোঙর ও মেঘদল। সবশেষে বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘এই তিন দশকের অর্জন কোনো একক প্রচেষ্টার ফল নয়, এটি সবার সম্মিলিত অবদান। প্রাক্তন ও বর্তমানদের মিলনমেলা ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক সম্পর্ককে সুদৃঢ় করবে। দুই দিনে ক্যাম্পাসে যেন মনে হয়েছে আমরা পুরোনো দিনে ফিরে গিয়েছি। অ্যালামনাইদের বিচরণ আর স্মৃতিচারণা বিভাগকে আরও প্রাণবন্ত করেছে।’