মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় পরিত্যক্ত পাবলিক লাইব্রেরি পুনরায় স্থাপন ও চালুর দাবিতে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় কুলাউড়া শহরের দক্ষিণ বাজার এলাকার একটি কমিউনিটি হলে স্রোত সাহিত্য পর্ষদ নামক স্থানীয় সংগঠন এই সভার আয়োজন করে।
লাইব্রেরির বর্তমান অবস্থা
কুলাউড়া পৌরসভার ডাকবাংলো মাঠের এক পাশে স্থাপিত পাবলিক লাইব্রেরির পুরোনো ভবনটি পরিত্যক্ত হওয়ায় প্রশাসন তা ভেঙে ফেলে। এরপর পুনঃস্থাপনে আর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নির্ধারিত স্থানে লাইব্রেরিটি পুনরায় স্থাপনের দাবি উঠেছে।
মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ
সভায় স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বক্তারা বলেন, ১৯৮৪ সালে উপজেলা প্রশাসন ডাকবাংলো মাঠের এক পাশে টিনশেডের আধা পাকা ঘরে কুলাউড়া পাবলিক লাইব্রেরি স্থাপন করে। সেখানে প্রায় আড়াই হাজার বই ও সংবাদপত্র ছিল। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর পাঠকদের সমাগম হতো। কিন্তু ২০১৫ সালের দিকে ভবনটি ভেঙে ফেলা হয় এবং পাঠাগারের অস্তিত্ব আজ নেই।
দাবি ও সিদ্ধান্ত
সভায় দ্রুত নির্ধারিত স্থানে লাইব্রেরি পুনঃস্থাপনের দাবি জানানো হয়। আগামী সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়।
ইউএনওর প্রতিক্রিয়া
এ বিষয়ে ইউএনও মো. মহিউদ্দিন বলেন, কুলাউড়ায় যোগদানের আগেই লাইব্রেরি অপসারণ করা হয়েছে। তার কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি দেখেছেন। লিখিত আবেদন পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে।
সভায় বক্তব্য
স্রোত সাহিত্য পর্ষদের আহ্বায়ক নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম আহ্বায়ক সিরাজুল আলমের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন, সাবেক আহ্বায়ক রেদওয়ান খান, বাংলাদেশ জাসদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল ইসলাম, কুলাউড়া পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম, নবীন চন্দ্র সরকারি মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমির হোসেন, প্রবীণ সাংবাদিক সুশীল সেনগুপ্ত, বরমচাল উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ফজলুল হক, কুলাউড়া সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সৌম্যপ্রদীপ ভট্টাচার্য, উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিপার আহমেদ, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্মাল্য মিত্র, বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী, স্থানীয় আদর্শ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক খালিক উদ্দিন প্রমুখ।



