ডাকসু নেতার বিরুদ্ধে 'দাঁত ফেলে দেওয়ার' হুমকির অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন মুসাদ্দিক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন যে, ছাত্রদল নেতা মো. আলাউদ্দিন ও তার সহযোগীরা তাকে 'দাঁত না রাখার' হুমকি দিয়েছেন। এছাড়াও, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারতে উদ্যত হওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি। বুধবার (২৩ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মুসাদ্দিক এই অভিযোগগুলো বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করেন।
ঘটনার বিবরণ: কলা ভবনের সামনে পথরোধ ও হুমকি
মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বর্ণনা করেন যে, বুধবার বেলা ১টা ২৫ মিনিট থেকে ১টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে তিনি কলা ভবনের পেছনের ফটকের সামনে দিয়ে ক্লাসে যাচ্ছিলেন। তখন আলাউদ্দিনসহ আরও কয়েকজন তার পথ রোধ করেন। পথরোধের পর মুসাদ্দিক জিজ্ঞেস করলে, আলাউদ্দিন প্রথমেই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বলেন, 'তুই আমাকে চিনতে পারতেছিস না? তুই দাঁতাল, তোর দাঁত থাকবে না।' এই হুমকির পাশাপাশি, আলাউদ্দিন একপর্যায়ে মারতে উদ্যত হন বলে দাবি করেন মুসাদ্দিক। যদিও সঙ্গীরা তাকে সরিয়ে নিলেও, আলাউদ্দিন বারবার তেড়ে এসে হামলার চেষ্টা করেন এবং যাওয়ার সময় আবারও হুমকি দেন।
ছাত্রদল নেতার প্রতিক্রিয়া: অভিযোগ অস্বীকার ও জবাব চাওয়া
এ বিষয়ে ছাত্রদল নেতা মো. আলাউদ্দিন প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, 'আমি মুসাদ্দিককে বলেছি, তুমি আমার নামে যে মিথ্যা কথা লিখেছ, আমিও তো বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্র। আমার নামে যে ভুয়া কথাগুলো, মিথ্যা প্রপাগাণ্ডা কেন ছড়িয়েছে, এ কথার জবাব চেয়েছি শুধু তার কাছে।' তিনি প্রশ্ন রাখেন যে, এই জবাব চাওয়া কোনো অন্যায় কি না। আলাউদ্দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলার কারণে প্রথমবার পড়াশোনা করতে না পারায় তিনি ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে পুনঃর্ভর্তি হন এবং পরে ২০২৩-২৪ সেশনে দ্বিতীয়বারের মতো আবার ভর্তি হন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে উত্তেজনা ও নিরাপত্তা প্রশ্ন
এই ঘটনাটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। মুসাদ্দিকের অভিযোগগুলো যদি সত্য হয়, তাহলে এটি ছাত্র রাজনীতিতে সহিংসতা ও হুমকির একটি উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে। অন্যদিকে, আলাউদ্দিনের বক্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে, এটি ব্যক্তিগত বিবাদ বা মিথ্যা প্রচারের প্রতিক্রিয়া হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এখন এই বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, যাতে ক্যাম্পাসে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় থাকে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আরও সংঘাতের সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
মোটকথা, ডাকসু নেতা মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদের 'দাঁত ফেলে দেওয়ার' হুমকির অভিযোগ এবং ছাত্রদল নেতা মো. আলাউদ্দিনের প্রত্যাখ্যান এই ঘটনাকে একটি জটিল রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের ঘটনা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। আশা করা যায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত করে সত্যতা নিরূপণ করবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।



