বাংলাদেশে এভিয়েশন পেশার সুযোগ নিয়ে ইউএপি ও এভিয়ানোমিএক্সের যৌথ সেমিনার অনুষ্ঠিত
বাংলাদেশে এভিয়েশন পেশার সুযোগ নিয়ে ইউএপি-এভিয়ানোমিএক্স সেমিনার

বাংলাদেশে এভিয়েশন পেশার সম্ভাবনা নিয়ে যৌথ সেমিনার

ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) এবং এভিয়ানোমিএক্সের যৌথ উদ্যোগে “বাংলাদেশে এভিয়েশন পেশা: সুযোগ, ক্রমবিকাশ ও কর্মজীবনের পথ” শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) রাজধানীর ফার্মগেটে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের মিলনায়তনে এই সেমিনার আয়োজিত হয়, যা দেশের ক্রমবর্ধমান এভিয়েশন খাতের সম্ভাবনা, আধুনিকীকরণ প্রবণতা এবং তরুণ শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মজীবন গঠনের সুযোগ সম্পর্কে দিকনির্দেশনা প্রদান করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথির উপস্থিতি

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সভাপতি কে. এম. মোজিবুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহ, যিনি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (যুব কর্মসংস্থান বিষয়ক) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞ, এভিয়ানোমিএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ও সিভিল এভিয়েশন একাডেমির পরিচালক জনাব প্রশান্ত কুমার চক্রবর্তী

বিমান চলাচল খাতের বিকাশ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ

মূল বক্তব্যে প্রশান্ত কুমার চক্রবর্তী বলেন, “বাংলাদেশের বিমান চলাচল খাত বর্তমানে দ্রুত বিকশিত হচ্ছে। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, কক্সবাজার বিমানবন্দর আন্তর্জাতিকীকরণ এবং ড্রোন প্রযুক্তির বিকাশ এই খাতে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছে। বিমান চালক ও কেবিন ক্রু ছাড়াও বিমান চলাচল প্রকৌশলী, তথ্য বিশ্লেষক, আকাশপথ নিয়ন্ত্রক এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপকদের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রধান অতিথি ও সভাপতির বক্তব্য

প্রধান অতিথি কে. এম. মোজিবুল হক তার বক্তব্যে বলেন, “বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে শুধুমাত্র তাত্ত্বিক জ্ঞান যথেষ্ট নয়। ইউএপি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক দক্ষতা ও শিল্প-উপযোগী করে তুলতে এভিয়ানোমিক্সের মতো অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছে। আমাদের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা।” সভাপতি অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া যোগ করেন, “বিমান চলাচল খাত কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। ইউএপি-তে বিমান চলাচল ব্যবস্থাপনা, ড্রোন প্রযুক্তি ও গ্রিন এভিয়েশন বিষয়ে নতুন একাডেমিক ধারা সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে।”

কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি ঘোষণা

আলোচনা সভায় ইউএপি এবং এভিয়ানোমিএক্সের কর্তৃপক্ষ একটি কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তির ঘোষণা দেন। এই চুক্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিমান চলাচল ব্যবস্থাপনা, আকাশযান প্রকৌশল ও বিমান চলাচল নিরাপত্তা বিষয়ে বিশেষায়িত সনদপত্র কোর্স এবং কর্মশালায় অংশ নিতে পারবে, যা তাদের কর্মজীবনে প্রস্তুত করতে সহায়ক হবে।

শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও প্রশ্নোত্তর পর্ব

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন, যারা এভিয়েশন খাতের সম্ভাবনা নিয়ে উৎসাহ প্রদর্শন করেন। পরিশেষে, এই সেক্টরে প্রশিক্ষণ ও বৃত্তি, আন্তর্জাতিক সনদপত্র এবং বিমান চলাচল শিল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ নিয়ে একটি প্রাণবন্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়, যা শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসা ও আগ্রহের প্রতিফলন ঘটায়।