ভূগোল ১ম পত্র: সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর - নিফে, ব্যাসল্ট স্তর ও পর্বতের বৈশিষ্ট্য
ভূগোল ১ম পত্র: সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর - নিফে ও পর্বত

ভূগোল ১ম পত্রের সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর নিচে দেওয়া হলো।

প্রশ্ন

ক. নিফে (NiFe) কী?
খ. ব্যাসল্ট স্তরকে মেফিক স্তর বলা হয় কেন?
গ. উদ্দীপকের চিত্র-খ পর্বতটির বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের চিত্র-ক ও চিত্র-খ পর্বতদ্বয়ের গঠনগত পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

ক. নিফে (NiFe) কী?

নিফে (NiFe) হলো কেন্দ্রমণ্ডল। কারণ, এর মূল গঠন উপাদান নিকেল (Ni) ও লোহা (Fe)।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

খ. ব্যাসল্ট স্তরকে মেফিক স্তর বলা হয় কেন?

ব্যাসল্ট স্তরে ম্যাগনেশিয়াম (Mg) ও লৌহ (Fe) রয়েছে বলে একে মেফিক স্তর বলা হয়। ব্যাসল্ট স্তর মূলত মহাসাগরীয় ভূত্বক গঠন করে। এ স্তরে ম্যাগনেশিয়াম ও লৌহজাতীয় সিলিকেট, অতিক্ষারকীয় ব্যাসল্ট শিলার প্রধান উপাদান। তাই এ স্তরকে মেফিক স্তর বলা হয়।

গ. উদ্দীপকের চিত্র-খ পর্বতটির বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা

চিত্রে-খ হলো ভঙ্গিল পর্বত। ভঙ্গিল পর্বতের প্রধান বৈশিষ্ট্য ভাঁজ। কোমল পাললিক শিলায় ভাঁজ পড়ে যে পর্বত গঠিত হয়, তাকেই ভঙ্গিল পর্বত বলে। যেমন হিমালয়। নিচে ভঙ্গিল পর্বতের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করা হলো:

  • গিরিজনি আলোড়নের ফলে ভঙ্গিল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে।
  • ভূভাগের স্থান পরিবর্তনের ফলে প্রান্তভাগের অংশবিশেষে ভাঁজের সৃষ্টি হয়ে এ পর্বত গঠিত হয়।
  • ভঙ্গিল পর্বতে সুউচ্চ শৃঙ্গ থাকে।
  • স্তরযুক্ত নরম পাললিক শিলা দ্বারা এ পর্বত গঠিত।
  • এ ধরনের পর্বতে জীবাশ্মের (পাললিক শিলায়) উপস্থিতি লক্ষ করা যায়।
  • এ পর্বতের শিলাস্তরের ভেতর মাঝেমধ্যে আগ্নেয় ও রূপান্তরিত শিলা দেখা যায়।
  • এ পর্বতে দীর্ঘ চ্যুতিরেখা লক্ষ করা যায়।

ঘ. উদ্দীপকের চিত্র-ক ও চিত্র-খ পর্বতদ্বয়ের গঠনগত পার্থক্য

চিত্র 'ক' ও 'খ' যথাক্রমে স্তূপ ও ভঙ্গিল পর্বত। এরা বৈশিষ্ট্যগত দিক থেকে ভিন্ন। নিচে এদের গঠনগত পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভূ-আলোড়নের সময় ভূপৃষ্ঠের শিলাস্তরে প্রসারণ ও সংকোচনের সৃষ্টি হয়। ফলে ভূত্বকে ফাটলের সৃষ্টি হয়। এ ফাটল বরাবর ভূত্বক ক্রমে স্থানচ্যুতির মাধ্যমে কোথাও উঁচু আবার কোথাও নিচু হয়। চ্যুতির ফলে উঁচু হওয়া অংশকে স্তূপ পর্বত বলে। যেমন জার্মানির ব্ল্যাক ফরেস্ট। এসব পর্বত শৃঙ্গবিশিষ্ট নয় এবং ভঙ্গিল পর্বত থেকে অপেক্ষাকৃত নিচু।

অন্যদিকে সমুদ্র তলদেশের বিস্তারিত অবনমিত স্থানে দীর্ঘকাল ধরে বিপুল পরিমাণ পলি এসে জমা হয়। পরবর্তীকালে ভূমিকম্পের ফলে ভূখণ্ডের প্রবল পার্শ্বচাপের কারণে ঊর্ধ্ব ও নিম্ন ভাঁজের সৃষ্টি হয়। এসব ভাঁজবিশিষ্ট ভূমিরূপ মিলেই ভঙ্গিল পর্বত গঠিত হয়, যেমন হিমালয়। এসব পর্বতের সুউচ্চ শৃঙ্গ থাকে এবং এগুলো পর্বতমালা গঠন করে।

লেখক: মো. শাকিরুল ইসলাম, প্রভাষক, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা