রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার বিকালে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন।
তদন্ত প্রতিবেদনের মূল তথ্য
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ কক্ষ–২ পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, সেখানে দীর্ঘ সময় এসি বন্ধ ছিল এবং স্বাভাবিক ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা কার্যকর ছিল না। এ কারণে কক্ষটিতে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ
মন্ত্রী জানান, অস্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে ময়নাতদন্ত ছাড়া সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তবে পারিপার্শ্বিক অবস্থা, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও জবানবন্দি বিশ্লেষণে কিছু বিষয়কে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—একটি বদ্ধ কক্ষে অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি, দীর্ঘসময় এসি বন্ধ থাকা এবং পর্যাপ্ত বিকল্প ভেন্টিলেশন না থাকা। এতে কক্ষের অক্সিজেন স্বল্পতা ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা নবজাতকদের দীর্ঘ সময় টিকে থাকার জন্য অনুকূল ছিল না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
দায়িত্বে অবহেলা প্রমাণিত
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এ ধরনের পরিস্থিতিই মৃত্যুর ঘটনায় ভূমিকা রাখতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া দায়িত্বরত চিকিৎসক না থাকা ও নার্স স্টাফ এবং সর্বোপরি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বের অবহেলাজনিত বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে তদন্ত কমিটি।



