জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ ‘সাম্যবাদী’ নিয়ে পাঠচক্রের আসর করেছে সিলেট বন্ধুসভা। ২২ মে প্রথম আলো সিলেট অফিসের বন্ধুসভা কক্ষে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থের বৈশিষ্ট্য
‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত হয়। বইটিতে মোট ১১টি কবিতা সংকলিত হয়েছে। সবগুলো কবিতার মূল বক্তব্য একটি শব্দেই নিহিত—সমতা। নারী-পুরুষ সমতা, রাজা-প্রজা সমতা, ধনী-দরিদ্রের সমতা। সর্বোপরি মানুষে-মানুষে সমতা।
কবি প্রশ্ন তুলেছেন, রাজার কাছে, সমাজের কাছে, শাসনব্যবস্থার কাছে। সঙ্গে তিনি উত্তরও দিয়েছেন। তবে এ উত্তর কেবল কবির একার নয়, এ উত্তর ধরণির হাজার বছর ধরে নিষ্পেষিত হওয়া শ্রেণির। এ উত্তর মন্দির-মসজিদের দরজায় এক বেলা খাবারের আশায় কড়া নাড়া ভিখারির।
সাম্যচেতনার আধ্যাত্মিক দিক
কবির এ সাম্যচেতনা কেবল সামাজিক বা অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটেই সীমাবদ্ধ নয়। ‘ঈশ্বর’ কবিতাটিতে তিনি বলেছেন, প্রতিটি জীবমাত্রই ঈশ্বর, নিজেকে জানা মানেই ঈশ্বরকে জানা আর জীবের সেবা মানেই ঈশ্বরসেবা। কবি মানবতার ধারার মধ্যেই ঈশ্বরকে খুঁজে পাওয়ার কথা বলেছেন। অর্থাৎ সাম্যবাদের সঙ্গে আধ্যাত্মিকতা, ধর্মনিরপেক্ষতা, বিদ্রোহ ও মুক্তচিন্তার এক অপূর্ব সমন্বয় ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থ।
পাঠচক্রের আলোচনা
পাঠচক্র পর্যালোচনায় বন্ধু সুবর্ণা দেব বলেন, ‘শত বছর পরেও কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী চেতনা আজও নতুন। যত দিন বাঙালি থাকবে, বাংলা ভাষা থাকবে, তত দিন তিনিও থাকবেন নতুন কোনো প্রজন্মের বিদ্রোহ হয়ে, কোনো এক নিষ্পেষিত শ্রেণির প্রতিবাদের ভাষা হয়ে।’
বন্ধু সাজন বিশ্বাস বলেন, ‘কেবল বিদ্রোহ আর সাম্যচেতনাই নয়, কবির রচনাবলিতে ঠাঁই পেয়েছে প্রেম-সৌন্দর্য ও অসাম্প্রদায়িকতা।’
বন্ধু আরাফ বলেন, ‘কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর লেখনীর মাধ্যমে বাঙালির মনে জাগিয়ে তুলেছেন আত্মমর্যাদা ও স্বাধীনতার চেতনা।’
অন্যান্য অংশগ্রহণকারী
পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন বন্ধু দেব রায় সৌমেন, ফয়সাল আহমেদ, অনুপমা দাস, শ্রেয়ান ঘোষ, কৃত্য ছত্রী, মিনথিয়া রহমান, সুমন দাস, প্রণব চৌধুরী, প্রত্যাশা তালুকদার, সৌম্য মন্ডল, অমিত দেবনাথ, প্রাণেশ দাস, শুভ তালুকদার, অলক সরকার, আজিজ বিন আহম্মদ, সফিউল ইসলাম, পারমিতা রায়সহ অনেকে।
পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক, সিলেট বন্ধুসভা



