ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ফখরুলকন্যার বার্তা
ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ফখরুলকন্যার বার্তা

হিমালয়ের পাদদেশে সবুজ ফসলের চাদরে মোড়া বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে একটি উচ্চমানের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন এখন বাস্তবায়নের পথে। এই মহতী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে এক অভিনব ও দূরদর্শী ভাবনার কথা প্রকাশ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কন্যা ড. শামারুহ মির্জা।

ফেসবুক পোস্টে প্রত্যাশা ও পরিকল্পনা

বুধবার নিজের ফেসবুক হ্যান্ডেলে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই নতুন বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে তার প্রত্যাশা ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। পোস্টে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার ‘আব্বু’ বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে লেখেন, ঠাকুরগাঁওয়ে একটি মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয় খুবই দরকার ছিল। তবে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কৃষিজমি রক্ষার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন তিনি।

কৃষিজমি রক্ষায় ভার্টিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

ড. শামারুহ মির্জার স্পষ্ট বার্তা— ‘কৃষি জমি যেন নষ্ট না হয়। ভার্টিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হোক।’ তিনি মনে করেন, কৃষিজমিতে ফসল চাষ অব্যাহত থাকলে অন্তত মানুষের পেটের চিন্তা করতে হবে না। সেই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে যেন বিশ্বমানের ‘কোয়ালিটি টিচিং’ এবং যোগ্য শিক্ষকমণ্ডলী নিশ্চিত করা হয়, সেই দাবিও জানান তিনি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও গবেষণার প্রস্তাব

বিশ্ববিদ্যালয়টির ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও গবেষণার পরিধি নিয়ে একগুচ্ছ চমৎকার প্রস্তাব দিয়েছেন ড. শামারুহ। তার মতে, ‘প্রস্তাবিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে থাকা উচিত একটি আন্তর্জাতিক মানের ভাষা ইনস্টিটিউট। জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে উচ্চতর গবেষণা কেন্দ্র। বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি ডেঙ্গু নিয়ে বিশেষ গবেষণার সুযোগ।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইকো-ফ্রেন্ডলি ক্যাম্পাসের স্বপ্ন

পোস্টের শেষে হিমালয়ের কোলঘেঁষা এই অঞ্চলটিকে দেশের সবচেয়ে সুন্দর ও ‘ইকো-ফ্রেন্ডলি’ (পরিবেশবান্ধব) ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তোলার এক দারুণ স্বপ্নের কথা ব্যক্ত করেন তিনি। প্রকৃতি আর আধুনিক শিক্ষার এমন মেলবন্ধন ঠাকুরগাঁও তথা সমগ্র বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে, এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

বাবা-মেয়ের ভাবনার মেলবন্ধন

এদিকে এই উদ্যোগ ও ফেসবুক পোস্টের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিশিষ্ট সংস্কৃতিবিদ অধ্যাপক মনতোষ কুমার দে। তিনি বলেন, ‘বাবা ও মেয়ের এই ভাবনার কী চমৎকার মেলবন্ধন! ভার্টিক্যাল পদ্ধতিতে বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা মেডিকেল কলেজসহ নানা স্থাপনা নির্মাণের পক্ষে বাবা ও মেয়ে দুজনেই শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। দেশের মূল্যবান কৃষিজমি যাতে কোনোভাবেই বিনষ্ট না হয়, সে ব্যাপারে তারা দুজনেই অত্যন্ত সচেতন, যা সত্যি প্রশংসনীয়।’