শিক্ষায় দর্শন বাধ্যতামূলক করার আহ্বান কথাসাহিত্যিকের
শিক্ষায় দর্শন বাধ্যতামূলক করার আহ্বান কথাসাহিত্যিকের

কথাসাহিত্যিক মশিউল আলম সম্প্রতি এক লেখায় দর্শন শিক্ষাকে মাধ্যমিক স্তরে বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত দর্শন পড়ালে শিক্ষার্থীরা চিন্তাশীল ও নৈতিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।

শিক্ষার বর্তমান অবস্থা ও দর্শনের প্রয়োজনীয়তা

মশিউল আলম বলেন, বর্তমানে পড়ালেখা নিয়ে সরকারি পর্যায়ে অনেক আলোচনা হলেও দর্শনের গুরুত্ব উপেক্ষিত। তিনি উল্লেখ করেন, আশির দশকে ডাক্তারি ও ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার প্রতি ঝোঁক বেশি ছিল, কিন্তু সামগ্রিক শিক্ষার উন্নতি হয়নি। সম্প্রতি বাংলা, ইতিহাস ও দর্শনে ডিগ্রি দেওয়া নিয়ে বিতর্ক তাকে দর্শনের গুরুত্ব পুনর্বিবেচনায় উদ্বুদ্ধ করেছে।

দর্শনের প্রকৃত অর্থ ও ভুল ধারণা

লেখক বলেছেন, দর্শনকে জটিল ও অবাস্তব মনে করা ভুল। আসলে দর্শন চিন্তা করতে শেখায়, যুক্তি-প্রমাণ পরীক্ষা করতে ও নৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “দর্শন আমাদের কী ভাবতে হবে তা নয়, বরং কীভাবে ভাবতে হবে তা শেখায়।”

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তথ্যের যুগে সমালোচনামূলক চিন্তা

বর্তমানে তথ্যের অভাব নয়, বরং সত্য-মিথ্যা পার্থক্যই বড় চ্যালেঞ্জ। মশিউল আলম বলেন, দর্শন শিক্ষার্থীদের গুজব, প্রচারণা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য চিহ্নিত করতে সাহায্য করে। “যে সমাজে মানুষ প্রশ্ন করতে শেখে, তাদের প্রতারিত করা যায় না,” তিনি মন্তব্য করেন।

সহনশীলতা ও নৈতিক উন্নয়ন

দর্শন সহনশীলতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিনয় গড়ে তোলে। লেখকের মতে, মতের অমিলে তিক্ততা কমাতে দর্শন শিক্ষা জরুরি। তিনি বলেন, “দুইজন মানুষ দ্বিমত পোষণ করলেই শত্রু হতে হবে না।” এছাড়া দর্শন নৈতিক বিকাশে ভূমিকা রাখে, যা দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে সহায়ক।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অর্থনৈতিক উপকারিতা ও বিশ্ব উদাহরণ

মশিউল আলম উল্লেখ করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে চিন্তাশক্তি, সৃজনশীলতা ও নৈতিক বিচার দক্ষতা অত্যন্ত মূল্যবান। বিশ্বের বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এই সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেয়। তিনি ফ্রান্সের উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে মাধ্যমিকের শেষ বছরে দর্শন বাধ্যতামূলক। ফিনল্যান্ডে ছোটবেলা থেকেই সমালোচনামূলক চিন্তা শেখানো হয়, যার ফলে সামাজিক স্থিতি ও নাগরিক আস্থা বেশি। ইংল্যান্ডের ‘ফিলসফি ফর চিলড্রেন’ কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের যুক্তি ও যোগাযোগ দক্ষতা বাড়িয়েছে। অস্ট্রেলিয়াতেও ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।

উপসংহার

লেখক শেষে বলেন, দর্শন চাকরির জন্য নয়, বরং নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার শিক্ষা। তিনি আশা করেন, এই বাধ্যতামূলক শিক্ষা বাংলাদেশকে আরও পরিণত ও সহনশীল সমাজে পরিণত করবে।