খুলনার পাইকগাছায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরীকে বছরের ৩৬৫ দিন ছুটি ছাড়াই দিনে প্রায় ২০ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি উপজেলার খড়িয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের। এ নিয়ে এলাকাজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
তিন বছর ধরে অমানবিক কাজের চাপ
জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী হিসেবে নিয়োগ পান তুহিন ঢালী। অভিযোগ রয়েছে, নৈশপ্রহরী পদে নিয়োগ পেলেও তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ২০ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। একই সঙ্গে বছরের কোনো দিনই ছুটি পান না। ভুক্তভোগী তুহিন ঢালী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরদিন সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত বিদ্যালয় পাহারা দিতে হয় তাকে। এরপর সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে শিক্ষকদের বিভিন্ন নির্দেশনা ও অন্যান্য দায়িত্ব পালন করতে হয়।
অভিভাবক ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য
স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মামুন সানা বলেন, একজন নৈশপ্রহরীকে বছরের ৩৬৫ দিনে এক দিনও ছুটি দেওয়া হয় না। দিন-রাত সমানভাবে কাজ করানো হচ্ছে, যা অমানবিক। ভুক্তভোগী তুহিন ঢালী বলেন, চাকরি হারানোর ভয়ে কিছু বলতে পারি না। তাই মুখ বুজে সব সহ্য করছি।
প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য ও শিক্ষক সমিতির প্রতিক্রিয়া
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেবদাশ মণ্ডল বলেন, বিদ্যালয়ের প্রয়োজন অনুযায়ী তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আনিসুজ্জামান বলেন, কোনো কর্মচারীকে সরকারি বিধির বাইরে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করানো বেআইনি। অভিযোগ সত্য হলে এটি অমানবিক আচরণ।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মন্তব্য
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রোকসানা পারভিন বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে সরকারি বিধি-বিধানের বাইরে কোনো কর্মচারীকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনে বাধ্য করার সুযোগ নেই।



