নরসিংদীর পলাশে প্রধান শিক্ষক বরুণ চন্দ্র দাসের দায়িত্বে ফেরা: ১৮ মাস পর পুনর্বহাল
নরসিংদীতে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে ফেরা: ১৮ মাস পর পুনর্বহাল

নরসিংদীর পলাশে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে প্রত্যাবর্তন: ১৮ মাস পর পুনর্বহাল

নরসিংদীর পলাশ থানা মডেল সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরুণ চন্দ্র দাস ‘মব’ সৃষ্টি করে সরিয়ে দেওয়ার প্রায় ১৮ মাস পর আবারও দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। বুধবার দুপুর ১২টায় বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর পদে ফিরে আসেন। এই অনুষ্ঠানে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সাবেক সভাপতি ও ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির সভাপতি আলম মোল্লা উপস্থিত ছিলেন।

তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় পুনর্বহাল

বিদ্যালয় সূত্র থেকে জানা গেছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রায় ১৮ মাস আগে ‘মব’ সৃষ্টি করে প্রধান শিক্ষক বরুণ চন্দ্র দাসকে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। সেই সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছিল। তবে এই অভিযোগগুলো তদন্তের জন্য একাধিক কমিটি গঠন করা সত্ত্বেও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় প্রধান শিক্ষক বরুণ চন্দ্র দাসকে আবার স্বপদে বহাল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বুধবার পুনরায় দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন।

শিক্ষক ও স্থানীয় নেতাদের প্রতিক্রিয়া

দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধান শিক্ষক বরুণ চন্দ্র দাস সবার সহযোগিতা কামনা করে বলেন, ‘আমি বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। শিক্ষার্থীদের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাব।’

ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির সভাপতি আলম মোল্লা এই ঘটনা সম্পর্কে মন্তব্য করেন, ‘প্রধান শিক্ষক বরুণ চন্দ্র দাসকে অন্যায়ভাবে মব সৃষ্টি করে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাঁকে পুনরায় স্বপদে বহাল করতে পেরে আমরা আনন্দিত। এটি একটি ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত।’

এই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন:

  • পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন
  • ঘোড়াশাল পলাশ আঞ্চলিক শ্রমিক দলের সভাপতি আল আমিন ভূঁইয়া
  • উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কুমুদ রঞ্জন দেবনাথ

শিক্ষা কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা ফেরানো

এই ঘটনা নরসিংদীর পলাশ থানা মডেল সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে ফেরার মাধ্যমে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও শিক্ষামূলক কাজে গতি আসবে বলে স্থানীয়রা প্রত্যাশা করছেন। এই পদক্ষেপটি শিক্ষকদের অধিকার ও ন্যায়বিচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।