বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের উৎসব ভাতা শতভাগ করার আশ্বাস শিক্ষামন্ত্রীর
শিক্ষকদের উৎসব ভাতা শতভাগ করার আশ্বাস

বেসরকারি শিক্ষকদের উৎসব ভাতা শতভাগ করার প্রতিশ্রুতি

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বর্তমানে তাদের মূল বেতনের মাত্র ৫০ শতাংশ উৎসব ভাতা পান। তবে এই ভাতা শতভাগ করার জন্য সরকার কাজ করছে বলে আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে শিক্ষামন্ত্রী

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। সরকারি কর্মচারীরা মূল বেতনের শতভাগ উৎসব ভাতা পেলেও বেসরকারি শিক্ষকরা সেটা পান না কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের উৎসব ভাতার বিষয়টি আমি অবগত। এবার (এই সরকারের আমলে) এটা হয়ে যাবে। আমরা বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছি।’

এমপিওভুক্তি ও বদলি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হবে

এর আগে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আরও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য যেসব আবেদন পড়েছে সেগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। কোনো ধরনের অনিয়ম, ঘুস বাণিজ্য হয়েছে কিনা সেসব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এছাড়া তিনি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির প্রক্রিয়াটি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চালু করার প্রতিশ্রুতিও দেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমি আশা করছি, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়াটা চালু করা হবে। না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সিস্টেমে যদি কোনো ত্রুটি থেকে থাকে, সেটাও খতিয়ে দেখা হবে।’

শিক্ষকদের প্রত্যাশা ও সরকারের পদক্ষেপ

বেসরকারি শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল উৎসব ভাতা শতভাগ করা। সরকারি কর্মচারীদের মতো সমান সুবিধা পাওয়ার জন্য তারা আন্দোলনও করেছেন। শিক্ষামন্ত্রীর এই ঘোষণায় শিক্ষক মহলে আশার সঞ্চার হয়েছে।

  • বর্তমানে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মূল বেতনের ৫০% উৎসব ভাতা পান।
  • শিক্ষামন্ত্রী এই ভাতা শতভাগ করার জন্য কাজ করার আশ্বাস দিয়েছেন।
  • এমপিওভুক্তির আবেদন যাচাই-বাছাই করে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
  • শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়া দ্রুত চালু করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রীর এই ঘোষণা বেসরকারি শিক্ষকদের জন্য একটি বড় সুখবর হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকারের এই পদক্ষেপ শিক্ষকদের আর্থিক স্বচ্ছলতা ও মর্যাদা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।