শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনিয়মের চিত্র: ৯৭৩টি পরিদর্শন প্রতিবেদন প্রকাশ
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) সারা দেশের ৯৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ পরিদর্শন ও নিরীক্ষা প্রতিবেদনের তালিকা প্রকাশ করেছে। রোববার (১ মার্চ) অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক এম এম সহিদুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের সময়কাল ও প্রকাশনা
২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন ৯৭৩টি প্রতিষ্ঠানে পরিচালিত পরিদর্শন, নিরীক্ষা ও তদন্ত প্রতিবেদনের তালিকা ডিআইএর ওয়েবসাইটের নোটিশ বোর্ডে প্রকাশ করা হয়েছে। এই প্রতিবেদনগুলোতে বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের চিত্র স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
উল্লেখযোগ্য অনিয়মের ধরন
প্রকাশিত প্রতিবেদনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ব্যাপক অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে প্রধান অনিয়মগুলো হলো:
- জাল ও ভুয়া সনদ ব্যবহার: অনেক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রমাণে জাল সনদ ব্যবহৃত হচ্ছে।
- অগ্রহণযোগ্য সনদ: কিছু ক্ষেত্রে অগ্রহণযোগ্য বা অবৈধ সনদ প্রদান করা হয়েছে।
- অবৈধ নিয়োগ: নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব ও অবৈধ নিয়োগের ঘটনা ঘটেছে।
- অর্থ আত্মসাৎ: প্রতিষ্ঠানের তহবিল থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
- ভ্যাট ও আয়কর সংক্রান্ত অনিয়ম: আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ভ্যাট ও আয়কর (আইটি) সংক্রান্ত অনিয়ম চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদন বিতরণ ও প্রাপ্তির পদ্ধতি
প্রতিবেদনগুলোর অনুলিপি সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর—মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর ই-মেইলেও প্রতিবেদন প্রেরণ করা হয়েছে।
এছাড়া সংশ্লিষ্ট জেলা শিক্ষা অফিস, শিক্ষা বোর্ড, ব্যবস্থাপনা কমিটি বা গভর্নিং বডির সভাপতি এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছেও ই-মেইলে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্ধারিত ই-মেইলে প্রতিবেদন না পেলে সংশ্লিষ্ট জেলা শিক্ষা অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে ডি-নথি সিস্টেম থেকে তা সংগ্রহ করতে পারবে।
বিকল্প প্রাপ্তির ব্যবস্থা
ডি-নথি সিস্টেম থেকে সংগ্রহ সম্ভব না হলে প্রতিষ্ঠানের লেটারহেডে পরিচালক, পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর বরাবর আবেদন করে তার অনুলিপি [email protected] ঠিকানায় পাঠাতে হবে। ই-মেইলে আবেদন পাওয়ার তিন কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ই-মেইলে পুনরায় প্রতিবেদন পাঠানো হবে। প্রয়োজনে ০২৪১০৫৩৩৪৭ নম্বরে যোগাযোগ করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এই প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ডিআইএর পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
