ফেনীর ভাষাশহীদ আবদুস সালাম গ্রন্থাগার ও জাদুঘর: ভাঙন ও অবহেলার শিকার
ফেনীর ভাষাশহীদ আবদুস সালাম গ্রন্থাগার: ভাঙন ও অবহেলা

ফেনীর ভাষাশহীদ আবদুস সালাম গ্রন্থাগার ও জাদুঘর: ভাঙন ও অবহেলার শিকার

ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলায় অবস্থিত ভাষাশহীদ আবদুস সালাম গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরটি বর্তমানে ভাঙন ও অবহেলার মুখোমুখি। নদী ভাঙনের কারণে জাদুঘর ভবনটি হুমকির সম্মুখীন, পাশাপাশি দর্শনার্থী সংখ্যাও দিন দিন কমছে।

সিলোনিয়া নদীর ভাঙন ও জাদুঘরের হুমকি

আবদুস সালামফেনীর সিলোনিয়া নদীর শাখাখালে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এই ভাঙনের কবলে পড়েছে গ্রন্থাগার ও জাদুঘরটির আশপাশের এলাকা। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে কয়েক বছরের মধ্যে জাদুঘর ভবনটি সরাসরি ভাঙনের কবলে পড়বে। ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও স্থানীয়রা এর কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

দর্শনার্থী শূন্যতা ও স্মৃতিস্মারকের অভাব

গ্রন্থাগার ও জাদুঘরটিতে ভাষাশহীদ আবদুস সালামের কোনো স্মৃতিস্মারক নেই বলে স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করছেন। আকর্ষণের কিছু না থাকায় দিন দিন দর্শনার্থীর সংখ্যা কমছে। শুধুমাত্র একুশে ফেব্রুয়ারি এলেই জাদুঘরটি নিয়ে মানুষের আগ্রহ বাড়ে, বছরের অন্য সময় এটি অবহেলায় কাটে। গ্রন্থাগারিক মো. লুৎফুর রহমান বাবলু জানান, সপ্তাহে মাত্র দু-একজন পাঠক বা দর্শনার্থী আসেন।

গ্রন্থাগারের বর্তমান অবস্থা

২০২৪ সালের বন্যায় গ্রন্থাগারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে গত বৃহস্পতিবার সকালে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত কাঠের বুকশেলফগুলো সরিয়ে স্টিলের শেলফ বসানো হয়েছে। প্লাস্টিকের নতুন চেয়ার ও টেবিলও সংযোজন করা হয়েছে। বন্যায় নষ্ট হওয়া বইগুলো সরিয়ে নতুন বই আনা হয়েছে, বর্তমানে গ্রন্থাগারে প্রায় তিন হাজার বই রয়েছে। নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভি ক্যামেরাও স্থাপন করা হয়েছে।

স্থানীয়দের মতামত ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

স্থানীয় বাসিন্দা মোজাম্মেল হক হাসান বলেন, গ্রন্থাগারে আবদুস সালামের নামে প্রকাশিত কোনো বই নেই, তাঁর একুশে পদক বা ক্রেস্টও নেই। আলমগীর হোসেনের মতে, ফেব্রুয়ারি মাসে সরকারি কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা আসলেও বছরের অন্য সময় কেউ খবর নেন না। ফেনীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রমেন শর্মা পাঠক কম হওয়ার জন্য মানুষের পাঠাভ্যাস কমে যাওয়াকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ মেয়াদে পাঠক তৈরি না করা গেলে গ্রন্থাগার সক্রিয় হবে না।

ভাষাশহীদ আবদুস সালামের ইতিহাস

আবদুস সালামের জন্ম ১৯২৫ সালে। তিনি চাকরির সন্ধানে গ্রাম থেকে ঢাকায় এসে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের ডিরেক্টরেট অব ইন্ডাস্ট্রিজ বিভাগে কাজ পেয়েছিলেন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনের বিক্ষোভ মিছিলে যোগ দেন এবং পুলিশের গুলিতে আহত হন। একই বছরের ৭ এপ্রিল হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর নামে ১৮ বছর আগে গ্রামের নাম সালামনগর করা হয় এবং তখনই এই গ্রন্থাগার ও জাদুঘরটি নির্মাণ করা হয়।

একুশে ফেব্রুয়ারির প্রস্তুতি ও শহীদ মিনারের অবস্থা

গ্রন্থাগার ও জাদুঘর ভবনের পাশে অবস্থিত শহীদ মিনারটিও ভালো অবস্থায় নেই। বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে এবং বেদির একাধিক টাইলস ভাঙা। দাগনভূঞার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহীদুল ইসলাম জানান, এবারও একুশে ফেব্রুয়ারির সকালে আবদুস সালামের পরিবারের পক্ষ থেকে সালামনগরের শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া হবে। আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে এবং জেলা প্রশাসনের কর্মসূচিতে সালামের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেবেন।