যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পার্কিং লটে গত শুক্রবার এক অনন্য দৃশ্যের অবতারণা হয়েছিল। সেদিন একদল শিক্ষার্থী নানা আকারের ট্রাক্টর চালিয়ে একে একে স্কুলের পার্কিং লটে প্রবেশ করে। আগামী সপ্তাহে এই শিক্ষার্থীদের স্কুল সমাপনী অনুষ্ঠান। এর আগে শুক্রবার ছিল স্কুলে তাদের শেষ দিন।
ট্রাক্টর ডে উদযাপন
এই শিক্ষার্থীদের একজন চেজ হারভেল। এদিন হারভেল তাদের পারিবারিক ট্রাক্টরটি চালিয়ে বিদ্যালয়ে আসে। এর আগে অসংখ্যবার সে এটি চালিয়েছে। এদিন হারভেল এবং তার আরও বেশ কয়েকজন সহপাঠী তাদের সাধারণ গাড়ি বাদ দিয়ে ট্রাক্টর, এটিভি, গলফ কার্টসহ নানা ধরনের যানবাহনে করে বিদ্যালয়ে হাজির হয়। ‘ট্রাক্টর ডে’ উদযাপনের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা এ কাজ করে। ১৯৮০-এর দশক থেকে মিশিগানের কার্লেটন শহরের ওই স্কুলে ট্রাক্টর ডে পালিত হয়ে আসছে। মিশিগানের রাজধানী ডেট্রয়েট থেকে শহরটি প্রায় ৫৬ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত।
দিনব্যাপী উৎসব
শুক্রবার অধিকাংশ শিক্ষার্থী সকাল সাড়ে ৭টার মধ্যে স্কুলে পৌঁছে যায়, তারপর দিনব্যাপী উৎসব চলতে থাকে। দিনব্যাপী আয়োজনের মধ্যে ছিল খেলা, সংগীত এবং স্থানীয় একটি রেস্তোরাঁ থেকে সরবরাহ করা মধ্যাহ্নভোজ। বার্ষিক এই আয়োজন শুধু সিনিয়র শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আনন্দময় বিদায় উদযাপনই নয়, বরং এটি এলাকার কৃষিভিত্তিক ঐতিহ্যকেও সম্মান জানানোর একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা
হারভেল বলে, ‘আমরা তো একটি কৃষিভিত্তিক স্কুল। এটা একটি ঐতিহ্য। আমাদের আগে সবাই এটা করেছে। আমরা শুধু সেই ধারাটা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।’ হারভেলের পরিবার চার প্রজন্ম ধরে কৃষক। শুক্রবার সে যে ট্রাক্টরটি নিয়ে স্কুলে এসেছিল, তিন বছর আগে তার বড় ভাইও স্কুলের শেষ দিনে একই ট্রাক্টর চালিয়ে স্কুলে এসেছিলেন। তার পরিবার এই ট্রাক্টর দিয়ে সয়াবিন ও ভুট্টা খেতে চাষাবাদ করে। আরেক শিক্ষার্থী মায়াহ হপপার্ট ভোরে একটি ট্রাক্টর চালিয়ে স্কুলে পৌঁছে যায়। অতীতে একই ট্রাক্টর চালিয়ে ট্রাক্টর দিবসে এয়ারপোর্ট হাইস্কুলে হাজির হয়েছিল হপপার্টের দুই বোন এবং তাদের আটজন কাজিন। হপপার্ট বলে, ‘সব বন্ধুর সঙ্গে আজই শেষ দিন।’ সে আগামী বছর মনরো কাউন্টি কমিউনিটি কলেজে নার্সিং পড়ার পরিকল্পনা করছে। অস্টিন নেডো বলে, শুক্রবার ছিল ‘শেষ উৎসব’। সেদিন অস্টিন সম্ভবত সবচেয়ে পুরোনো ট্রাক্টরটি নিয়ে আসার জন্য আলাদা অনুপ্রেরণা পায়। নেডোর আনা ট্রাক্টরটি ১৯৪০ সালে তৈরি। তার প্রপিতামহ এই ট্রাক্টর কিনেছিলেন। তার পর থেকে সেটি তাদের পরিবারের সঙ্গে আছে।



