শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ ও দায়িত্ব পালনে জোর দিলেন কাদের গনি চৌধুরী
দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য শিক্ষা খাতে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী। তিনি বলেন, শিক্ষা হলো অন্ধকার থেকে আলোর দিকে যাত্রা এবং শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতির উন্নতি অসম্ভব।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য
শনিবার (১৮ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের কনফারেন্স হলে অ্যাসোসিয়েশন ফর ম্যাস অ্যাডভান্সমেন্ট নেটওয়ার্ক-আমান আয়োজিত একটি ছাত্রবৃত্তির চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আমানের নির্বাহী পরিচালক ড. মুহাম্মদ আবু ইউসুফের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন কারিগরি ও শিক্ষা বিভাগের সচিব দাউদ মিয়া, ইকো ইউএসএ’র প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ জামান, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম এবং মানারাত ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান প্রমুখ।
দায়িত্ব পালনের আহ্বান
কাদের গনি চৌধুরী শিক্ষায় সফলতার জন্য যার যার জায়গা থেকে নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হওয়ার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব হলো নিয়মিত পড়ালেখা করা, পাঠে মনোযোগী হওয়া এবং হোমওয়ার্ক নিয়মিত করা। শিক্ষকদের দায়িত্ব নিয়মিত পাঠদান ও সততার শিক্ষা দেওয়া। পরিবারের দায়িত্ব সন্তানকে শিক্ষালয়ে পাঠানো, হোমওয়ার্ক তদারকি করা এবং সন্তানের সঙ্গী নির্বাচনে সজাগ দৃষ্টি রাখা।
পরিবারের ভূমিকা
তিনি পরিবারকে জ্ঞানচর্চার সূতিকাগার ও শাশ্বত বিদ্যালয় হিসেবে বর্ণনা করেন। কাদের গনি চৌধুরী বলেন, পরিবার থেকে সুশিক্ষা না পেলে জ্ঞানের পূর্ণতা আসে না। সভ্যতা, নৈতিকতা ও শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তি পারিবারিক মূল্যবোধ থেকেই গড়ে ওঠে। তিনি অভিভাবকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, সন্তানের বাইরের বন্ধুত্ব ও কার সঙ্গে মিশছে তা নজরদারি করা প্রয়োজন।
বাজেট বরাদ্দ নিয়ে সমালোচনা
শিক্ষা খাতে সরকারের উদাসীনতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, শিক্ষা খাতে জাতীয় বাজেটের ২০ শতাংশ বরাদ্দের দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানানো হলেও বাজেটের ১২ শতাংশের বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না। জিডিপির হিসাবে শিক্ষা খাতের বরাদ্দ ২ শতাংশে আটকে আছে। তিনি উল্লেখ করেন, ভুটান, নেপাল, ভারতসহ এ অঞ্চলের অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ কম। ইউনেস্কোর সুপারিশ অনুযায়ী জাতীয় বাজেটের ২০ শতাংশ ও জিডিপির ৪ থেকে ৬ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া প্রয়োজন, কিন্তু তা অর্জন করা যায়নি।
অন্যান্য বক্তাদের মতামত
দাউদ মিয়া বলেন, প্রশিক্ষিত ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ছাড়া শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি শিক্ষাকে শিশুর মস্তিষ্কে বীজ বপনের সাথে তুলনা করেন এবং মানসম্মত শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন। মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম দেশের শিক্ষার মান হ্রাসের উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মান আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সপ্তম শ্রেণির সমান। তিনি পরীক্ষায় পাসের হার বাড়লেও মান উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
সরকারের সঠিক উদ্যোগ ও সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে এই অনুষ্ঠানটি শেষ হয়, যা শিক্ষা খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও সমাধানের পথ নিয়ে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।



