এসএসসি পরীক্ষা নকলমুক্ত হবে, শিক্ষাবাজেট জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীতের লক্ষ্য
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ড. খন্দকার মারুফ হোসেন বলেছেন, চলতি এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নকলমুক্ত, সুষ্ঠু এবং সুন্দর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, ‘শতভাগ নকলমুক্ত করতে পরীক্ষার হলে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। বর্তমান সরকার শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে বদ্ধপরিকর।’
শিক্ষা সংস্কারের বিস্তারিত পরিকল্পনা
ড. মারুফ বুধবার কুমিল্লার দাউদকান্দি আদর্শ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা খাতের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সরকার শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্নীতি ও বিশৃঙ্খলা দূর করতে নিরলসভাবে কাজ করছে।
শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে সরকারের উল্লেখযোগ্য পরিকল্পনাগুলো হলো:
- শিক্ষাবাজেট জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করা।
- জাতীয় কারিকুলাম ও পাঠ্যপুস্তক পুনর্বিবেচনা করা।
- ‘এক শিক্ষক, এক ট্যাব’ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রদান।
- ‘আইটেম ব্যাংক’ ভিত্তিক পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করা।
- দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে কারিগরি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া।
- প্রতিটি বিভাগে একটি করে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং উচ্চশিক্ষায় গবেষণার জন্য বিশেষ অনুদান দেওয়া।
- কোচিং সেন্টার ধীরে ধীরে শতভাগ বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া।
বিএনপির শিক্ষা উন্নয়নের দাবি
ড. মারুফ বলেন, ‘যে জাতি যত বেশি শিক্ষিত ও মেধাবী, সে জাতি তত উন্নত। বিএনপি যখনই ক্ষমতায় থাকে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়ার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকে, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন হয়।’ তিনি দাবি করেন, ২০০১-০৬ মেয়াদে বিএনপি সরকার পাবলিক পরীক্ষা নকলমুক্ত করে শিক্ষাক্ষেত্রে ইতিহাস গড়েছেন।
তিনি বিগত সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার শিক্ষাঙ্গণে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে এবং ঢালাওভাবে পাশের হার বাড়িয়ে শিক্ষা ব্যবস্থাকে সমূলে ধ্বংস করেছে। শিক্ষার মানোন্নয়নে তারা কোনো কাজ করেনি।’
দাউদকান্দিতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড
ড. মারুফ তার বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের উন্নয়ন কাজের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ড. মোশাররফ মন্ত্রী-এমপি থাকাকালীন দাউদকান্দিতে পৌরসভা, ২০ শয্যার হাসপাতাল ও তিতাস উপজেলা প্রতিষ্ঠা করেছেন। তার ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে দাউদকান্দি ও ইলিয়টগঞ্জে ২টি ডিগ্রী কলেজ, গোপালপুরে হাইস্কুল, গৌরীপুরে বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, নৈয়াইরে হাইস্কুল, সোনাকান্দায় দাখিল মাদ্রাসা এবং এতিমখানা কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে দাউদকান্দি আদর্শ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মো. আবদুস সাত্তারের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন প্রধান শিক্ষক মো. জসিমউদ্দিন, অভিভাবক সদস্য মো. বিল্লাল মিয়াজি, নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকার, কাউসার আলম সরকার, কামাল হোসেন, শরীফ চৌধুরী ও মো. রোমান খন্দকার প্রমুখ।



