বিএনপি সরকারের সামনে শিক্ষা সংস্কারের চ্যালেঞ্জ: ডিজিটাল বর্জন দূর করতে হবে
বিএনপি সরকারের শিক্ষা সংস্কার: ডিজিটাল বর্জন দূর করতে হবে

বিএনপি সরকারের সামনে শিক্ষা সংস্কারের চ্যালেঞ্জ: ডিজিটাল বর্জন দূর করতে হবে

নতুন বিএনপি সরকারের সামনে দেশের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। তবে দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত শিক্ষা খাত সংস্কারে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে সরকারকে। শিক্ষা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি শুধু শ্রেণিকক্ষ ও পাঠ্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, বরং দীর্ঘদিন যারা বাদ পড়ে আছেন তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবেশযোগ্য করতে হবে।

ডিজিটাল বর্জন: একটি নকশাগত ত্রুটি

সম্প্রতি একটি জাতীয় ওয়েবিনারে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ডিজিটাল বর্জন আমাদের দেশে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান একটি নকশাগত ত্রুটি। শিক্ষা নীতির কেন্দ্রে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত না করা হলে লক্ষ লক্ষ মানুষ সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকবেন। এটি অত্যন্ত হতাশাজনক যে জনপ্রিয় ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্মগুলোও এখনো মৌলিক প্রবেশযোগ্যতা পরীক্ষায় ব্যর্থ হচ্ছে।

ভিডিওতে ক্যাপশনের অভাব, স্ক্রিন রিডার দ্বারা পড়া যায় না এমন পিডিএফ এবং শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য অসহায় নেভিগেশন সিস্টেম—এগুলো প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বড় বাধা। শ্রবণ, দৃষ্টি বা জ্ঞানীয় প্রতিবন্ধিতা রয়েছে এমন শিক্ষার্থীদের জন্য এই বাধাগুলো শিক্ষাকে আরও দুর্গম করে তুলছে। এর ফলাফল হচ্ছে বৈষম্য বৃদ্ধি, দক্ষতার ব্যবধান প্রসারিত হওয়া এবং অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ হ্রাস পাওয়া।

অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা: আইনি ও নৈতিক বাধ্যবাধকতা

বিএনপি সরকার যদি সবার জন্য একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়তে আন্তরিক হয়, তাহলে শিক্ষায় প্রবেশযোগ্যতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কণ্ঠস্বর শোনা এবং নীতি নির্ধারণ ও প্ল্যাটফর্ম ডিজাইনে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা না হলে এটি সম্ভব হবে না। অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাকে কখনোই বিলাসিতা হিসেবে দেখা উচিত নয়, বরং এটি একটি আইনি, নৈতিক এবং উন্নয়নমূলক বাধ্যবাধকতা।

বাংলাদেশ জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার ব্যাপক আলোচনা করেছে। এটি বাস্তবায়ন করতে হলে প্রতিটি শিক্ষার্থী, তাদের সামর্থ্য নির্বিশেষে, সম্পূর্ণভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের উচিত হবে শিক্ষা নীতিতে প্রবেশযোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে প্রতিবন্ধীবান্ধব করে তোলা।

শিক্ষা খাতে সংস্কার শুধু পাঠ্যক্রম পরিবর্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, বরং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তবসম্মত সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। এটি করতে পারলেই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা সত্যিকার অর্থে অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে এবং একটি সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবে।