চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় ভুল এমসিকিউ শীট বিতরণের অভিযোগ
চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলার দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চলমান এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় গুরুতর ভুল এমসিকিউ শীট বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক বিভ্রান্তি ও মানসিক ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
কেন্দ্র দুটিতে কী ঘটেছে?
অভিযোগ অনুযায়ী, নারায়ণপুর পপুলার উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র এবং মতলব দারুল উলুম ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে পরীক্ষা শুরুর পরপরই নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত এমসিকিউ শীট বিতরণ করা হয়। শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন যে, তারা বিষয়টি দ্রুত কেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে জানালেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সংশোধনী কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়নি।
পরীক্ষার্থীদের বর্ণনা অনুসারে, প্রায় ছাব্বিশ মিনিট পর ভুলটি শনাক্ত করে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ সঠিক শীট প্রদান করে। এই সময়ের ব্যবধানে শিক্ষার্থীরা মারাত্মক সময়ের চাপ এবং মানসিক অস্থিরতার সম্মুখীন হন। তাদের অভিযোগ, মূল্যবান পরীক্ষার সময় নষ্ট হলেও পরবর্তীতে খুবই সীমিত পরিমাণ অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষকদের ভূমিকা ও প্রতিক্রিয়া
মতলব দারুল উলুম ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে ঘটনার পর এক শিক্ষক শিক্ষার্থীদেরকে বিষয়টি বাইরে প্রকাশ না করতে চাপ দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, নারায়ণপুর পপুলার উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রেও একই ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। সেখানে ২০২৫ সালের জন্য প্রস্তুতকৃত এমসিকিউ শীট দিয়ে পরীক্ষা শুরু করা হয়, যা পরে পরিবর্তন করা হয় এবং কিছু অতিরিক্ত সময় বরাদ্দ দেওয়া হয়।
নারায়ণপুর পপুলার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান জানান, "ভুলক্রমে কিছু ২০২৫ সালের এমসিকিউ শীট পাওয়া যায়, যা পরে দ্রুত পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে। সে সময় শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকায় বিষয়টি সমাধান করা সম্ভব হয়েছে।"
মতলব দারুল উলুম ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মকবুল হোসেন বলেন, "প্রথমে ভুলক্রমে অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের এমসিকিউ শীট বিতরণ করা হয়েছিল, পরে তা সংশোধন করা হয়েছে। এই বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে বসেই সমাধান করা হয়েছে।"
শিক্ষার্থীদের দাবি ও প্রত্যাশা
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তারা দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণেরও আহ্বান জানিয়েছেন। পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অনুষ্ঠানে এমন গাফিলতি তাদের শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এখন এই প্রশ্নটি জোরালোভাবে উঠেছে যে, কীভাবে পরীক্ষার কেন্দ্রগুলোতে এমন প্রাতিষ্ঠানিক ত্রুটি রোধ করা যাবে এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের অধিকার সুরক্ষিত রাখা যাবে।



