ক্লাস ওয়ানে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে শামারুহ মির্জার তীব্র সমালোচনা
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বড় মেয়ে ড. শামারুহ মির্জা ক্লাস ওয়ানের শিশুদের স্কুলে ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ ২০২৬) সকালে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া একটি পোস্টে তিনি এই মতামত প্রকাশ করেন।
বিদেশের উদাহরণ তুলে ধরে সমালোচনা
শামারুহ মির্জা তার পোস্টে লেখেন, "ক্লাস ওয়ানের বাচ্চা পরীক্ষা দিয়ে ভর্তি হবে? আশা করছি, হবে না।" তিনি উল্লেখ করেন যে আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে এন্ট্রি লেভেলে ভর্তি পরীক্ষা হয় না, বরং সেখানে এলাকা ভিত্তিক ভর্তি বা লটারি সিস্টেম চালু রয়েছে।
তিনি বাংলাদেশের হলিক্রস স্কুলের উদাহরণ দিয়ে বলেন, "ইভেন বাংলাদেশের হলিক্রস স্কুলে (অন্যতম শ্রেষ্ঠ মেয়েদের স্কুল) এন্ট্রি লেভেলে লটারি হয়। কম্পিটিশন ভালো, কিন্ত ক্লাস ওয়ানে?" তার মতে, এই বয়সে প্রতিযোগিতা শিশুদের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি করে।
কোচিং সেন্টার ও শিশুদের মানসিক চাপের আশঙ্কা
ফখরুলকন্যা আরও সতর্ক করে দেন যে, কোচিং সেন্টারগুলো ক্লাস ওয়ানের বাচ্চাদের লক্ষ্য করে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে, যা তাদের স্বাভাবিক শৈশবকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তিনি বলেন, "এমনিতে খেলার জায়গা নাই, ১৮ মাসের বাচ্চা রেপ হয়, আর কি বাকি থাকল। বাচ্চাগুলো আর বাচ্চা থাকল না!" এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি শিশুদের ওপর ক্রমবর্ধমান সামাজিক ও শিক্ষাগত চাপের দিকে ইঙ্গিত করেন।
শিক্ষামন্ত্রীর সিদ্ধান্ত ও লটারি তুলে দেওয়ার ঘোষণা
এদিকে, সোমবার (১৬ মার্চ) শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষায় লটারি পদ্ধতি থাকবে না বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, স্কুলে পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি নেওয়া হবে, তবে বৃত্তি পরীক্ষা আগের মতোই চলবে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সাল থেকে স্কুলে ভর্তির বিদ্যমান লটারি প্রথা তুলে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, "সামনের বছর থেকে ভর্তিতে লটারি তুলে দেওয়া হল। খুবই সাধারণ উপায়ে পরীক্ষা হবে। কোনো প্রতিযোগিতা আনব না। লটারি কোনো শিক্ষাব্যবস্থায় থাকতে পারে না।"
তিনি দাবি করেন যে এই সিদ্ধান্ত বহুদিন ধরে গবেষণা করে নেওয়া হয়েছে এবং অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে, ভবিষ্যতেও আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের দাবি
শামারুহ মির্জার এই সমালোচনা এবং শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণা বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ভর্তি পদ্ধতি নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও বিকাশের কথা বিবেচনা করে ভর্তি প্রক্রিয়া সহজ ও ন্যায্য হওয়া উচিত।
এই বিষয়ে সামাজিক মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে, যেখানে অনেক অভিভাবক ও শিক্ষাবিদ শামারুহ মির্জার মতামতের সাথে একমত পোষণ করছেন। তারা বলছেন, ক্লাস ওয়ানের মতো প্রাথমিক স্তরে ভর্তি পরীক্ষার চেয়ে লটারি বা এলাকা ভিত্তিক পদ্ধতি বেশি উপযুক্ত হতে পারে।
