আদাবরে স্কুল প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলা: দারোয়ান গ্রেপ্তার, জমি বিরোধের পটভূমি
আদাবরে স্কুল প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলা, দারোয়ান গ্রেপ্তার

আদাবরে স্কুল প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলা: দারোয়ান গ্রেপ্তার, জমি বিরোধের পটভূমি

রাজধানীর আদাবর থানার রিং রোডে অবস্থিত বেগম নুরজাহান মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দিনের ওপর হামলার অভিযোগে দারোয়ান ধলু শিকদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে স্কুলের প্রধান ফটকের সামনে এই ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয় এলাকায় তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

ঘটনার বিবরণ ও চিকিৎসা

ঘটনার সময় প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দিন বিদ্যালয়ের শিক্ষক সভা শেষে বের হওয়ার পথে ধলু শিকদার ও তার স্ত্রী পারভীনের দ্বারা কিলঘুষির শিকার হন। পাশাপাশি তাদের মেয়ে তানজিলা আক্তারও পেছন থেকে আক্রমণ চালান। আহত অবস্থায় প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাকে দ্রুত চিকিৎসা প্রদান করা হয়। পরে আদাবর থানা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত দারোয়ানকে আটক করে।

জমি দখল নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ

প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দিন জানান, এই হামলার পেছনে বিদ্যালয়ের ৩ কাঠা জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের একটি জটিল বিরোধ কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, ধলু শিকদার অনুমতি ছাড়াই দীর্ঘকাল ধরে ওই জমিতে টিনশেড বাড়ি তৈরি করে বসবাস করছেন। এই বিষয়ে ২০১৩ সাল থেকে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি জায়গা ছাড়েননি। ২০২০ সালে তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটি পুনরায় লিখিত নোটিশ প্রদান করে, কিন্তু তা-ও ফলপ্রসূ হয়নি।

২০২৪ সালের পর বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের জন্য হোস্টেল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যার জন্য জমি খালি রাখা অত্যন্ত জরুরি। গত ৩ ফেব্রুয়ারি শিক্ষক সভার মাধ্যমে ধলু শিকদারকে এক মাসের সময় দেওয়া হয়েছিল জায়গা ছাড়ার জন্য, এবং নোটিশের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়। এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায়ই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশের পদক্ষেপ ও মামলা

আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমান নিশ্চিত করেছেন যে, এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং দুইজনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে দারোয়ান ধলু শিকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যখন অন্যান্য সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দিন থানায় মামলা দায়ের করেছেন, যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

এই ঘটনা শিক্ষা ক্ষেত্রে সহিংসতা ও জমি দখলের মতো গুরুতর সমস্যাগুলোকে সামনে এনেছে, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। স্থানীয় সম্প্রদায় ও শিক্ষা কর্মীরা নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছেন।